অবশেষে এল সেই কাঙ্ক্ষিত সোনা। এশিয়ান গেমসে এতদিন রুপোতেই থামতে হয়েছিল ভারতের তারকা বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইকে। এবার আর কোনও আক্ষেপ নয়। শুক্রবার ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়াডের সোনার পদক জিতে নিলেন অসমের এই বক্সার।
আচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন লভলিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিয়ং সু-ইয়োনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছিলেন তিনি। এরপর সেমিফাইনালে কাজাখস্তানের নাতালিয়া বোগদানোভাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন।
ফাইনালেও নিজের ছন্দ ধরে রাখেন অসমের বক্সার। চিনা প্রতিপক্ষ বাও জিই-র বিরুদ্ধে পাঁচ বিচারকের রায়ই যায় লভলিনার পক্ষে। ফলে ৫-০ ব্যবধানে জিতে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি।
লভলিনার কাছে এই সোনার গুরুত্ব আলাদা। ২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ৭৫ কেজি বিভাগেই রুপো জিতেছিলেন তিনি। এবার সেই পদকের রং বদলে সোনা করে ফেললেন।
এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলাদের তালিকাতেও জায়গা করে নিলেন লভলিনা। তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে মেরি কম এশিয়াডে মহিলাদের বক্সিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।
লভলিনার জন্য দিনটি আরও বিশেষ। ২ অক্টোবর তাঁর জন্মদিনও। নিজের জন্মদিনে এশিয়ান গেমসের সোনার পদক জিতে ২৯ বছরে পা দিলেন অসমের এই অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার।
ফলে জন্মদিনের আনন্দের সঙ্গে যোগ হল দেশের হয়ে এশিয়াডে সোনা জয়ের গর্ব। ফাইনালের আগে অসমজুড়ে লভলিনাকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। সেমিফাইনাল জেতার পর থেকেই তাঁর গ্রামের বাড়ি এবং গোটা রাজ্যে সোনার আশায় অপেক্ষা চলছিল।
লভলিনা ইতিমধ্যেই ভারতের হয়ে অলিম্পিকে পদক জিতেছেন। টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের ৬৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। এবার এশিয়ান গেমসের সোনাও তাঁর কেরিয়ারের সাফল্যের তালিকায় যোগ হল।
বিশেষ করে ওজন বিভাগের পরিবর্তনের পরও লভলিনা নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। ৭৫ কেজি বিভাগে এশিয়াডের মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে এবার চূড়ান্ত সাফল্য পেলেন তিনি।
লভলিনার সোনা এশিয়ান গেমসে ভারতীয় বক্সিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায় একাধিক ভারতীয় বক্সার পদকের লড়াইয়ে ছিলেন। লভলিনার আগে থেকেই ৭৫ কেজি বিভাগে পদক নিশ্চিত ছিল। এবার সেই পদকই বদলে গেল সোনায়।
কাজাখস্তানের বোগদানোভাকে হারানো সেমিফাইনালটি লভলিনার জন্য সহজ ছিল না। পাঁচ বিচারকের স্কোরকার্ডে ৩০-২৭, ২৯-২৮, ২৯-২৮, ২৮-২৯ এবং ২৮-২৯ ব্যবধানে তাঁর পক্ষে রায় গিয়েছিল। সেই কঠিন লড়াই পেরিয়েই ফাইনালে পৌঁছেছিলেন তিনি।
ফাইনালে অবশ্য আর কোনও সংশয় রাখলেন না। বাও জিই-র বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ রেখে লড়াই করে পাঁচ বিচারকের সর্বসম্মত রায় নিয়ে রিং ছাড়লেন লভলিনা।
অসমের বারোমুখিয়া গ্রামের মেয়ের কেরিয়ারে তাই যোগ হল আরও একটি বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য। অলিম্পিক ব্রোঞ্জ এবং এশিয়ান গেমসের রুপোর পর এবার তাঁর ঝুলিতে এল এশিয়াডের সোনা। আর সেটিও এল নিজের জন্মদিনে, দেশের হয়ে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর।



