ছাব্বিশের ভোটের আগে নিজেদের শক্তি ও বিস্তার দেখাতে বড় পদক্ষেপ নিল Indian Secular Front। ৯ জেলার ২৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে স্পষ্ট বার্তা দিল—শুধু নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক নয়, বহুমুখী সামাজিক প্রতিনিধিত্বই এবার তাদের মূল কৌশল। তালিকায় যেমন পরিচিত মুখ, তেমনই রয়েছে নতুন চমক।
প্রত্যাশামতো ভাঙড় থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন Nawsad Siddique। পাশাপাশি ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে প্রভাবশালী নেতা Arabul Islam-কে। এই দুই কেন্দ্র ISF-এর কাছে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।


তালিকায় নজর কেড়েছে সামাজিক ভারসাম্য। একাধিক হিন্দু প্রার্থী, মহিলা প্রার্থী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে জায়গা দিয়েছে দল। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মন—এই নামগুলি সেই বার্তাকেই জোরালো করছে।
এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে শিক্ষক মহম্মদ শবে মিরাজ খান, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে পীযূষ হাঁসদা, পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনিতে বিশ্বজিৎ বাউড়ি এবং বীরভূমের বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
মালদার সুজাপুর থেকে শুরু করে নদিয়ার পলাশিপাড়া, চাপড়া, উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্র—বাদুড়িয়া, দেগঙ্গা, বসিরহাট—এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি, মগরাহাট, ভাঙড়-সহ বিস্তৃত এলাকায় প্রার্থী দিয়েছে ISF। হুগলির হরিপাল ও খানাকুল এবং পশ্চিমাঞ্চলের শালবনি ও বারাবনিতেও প্রার্থী ঘোষণা করে রাজ্যজুড়ে সংগঠন মজবুত করার ইঙ্গিত দিয়েছে দল।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকার মাধ্যমে ISF একদিকে যেমন নিজেদের মূল ঘাঁটি ধরে রাখতে চাইছে, তেমনই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব তুলে ধরে বৃহত্তর ভোটব্যাঙ্কে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে জোট সমীকরণ ও ত্রিমুখী লড়াইয়ে ISF গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।







