তিন বারের সাংসদ, মন্ত্রিত্ব চেয়েও মেলেনি, আসলে সৌমিত্র হতে চাইছেন পদ্মের রাজ্য সভাপতি!

বিজেপির 'এক ব্যক্তি এক পদ' নীতি অনুযায়ী সুকান্ত মজুমদারের রাজ্য সভাপতি ছেড়ে দেওয়াই কাম্য। সেক্ষেত্রে কে হবেন নতুন রাজ্য সভাপতি? কারণ, বছর দুয়েক পরেই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। কার হাতে দলের ব্যাটন তুলে দেবে বিজেপি?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সৌমিত্র খাঁ। বিজেপির ভরা মন্দার বাজারেও বিষ্ণুপুর আসন থেকে তৃতীয়বার পদ্ম-প্রতীকে জয়লাভ করেছেন। আর ৪ঠা জুন ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি যেন জল্পনা বাড়িয়েই চলছেন। প্রথমে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভার ‘স্ট্র্যাটেজি’-র ঢালাও প্রশংসা আর তারপর বাঁকুড়া জেলার ওন্দার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা এলাকার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা ভবতারণ চক্রবর্তীকে পা ছুঁয়ে প্রণাম। অনেকে তো নির্ঘাত ভেবেই ফেলেছিলেন, ফুলবদল করতে চলেছেন সৌমিত্র। কিন্তু, আসলেই কি শুধু তাই?

আরও পড়ুন: অনেক সাংসদ যোগাযোগ রেখে চলেছেন, যে কোন সময় ভাঙতে পারে মোদি সরকার, বললেন রাহুল

ভবতারণকে প্রণাম করার পর থেকেই জল্পনায় যে ঘৃতাহুতি পড়েছিল তা মঙ্গলবার বিকেলেই ‘ক্লিয়ার’ করে দিলেন সৌমিত্র। সাফ জানালেন, ‘আমি তৃণমূলে যাব না।’ কিন্তু কী চাইছেন তিনি? তিনি চান, কাজ হোক বিষ্ণুপুরে। ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পাক তাঁর কেন্দ্রের মানুষ। সঙ্গে সৌমিত্র যেটা জুড়লেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর ভরসা করতে চাই। রাজ্যের নেতৃত্বের ওপর আমরা ঘৃণা বা ভালোবাসা কোনওটাই নেই।’ প্রকল্পের টাকা পেতে প্রয়োজনে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করতেও সংকোচ বোধ করবেন না বলেই জানালেন।

তিন বারের সাংসদ, মন্ত্রিত্ব চেয়েও মেলেনি, আসলে সৌমিত্র হতে চাইছেন পদ্মের রাজ্য সভাপতি!
তিন বারের সাংসদ, মন্ত্রিত্ব চেয়েও মেলেনি, আসলে সৌমিত্র হতে চাইছেন পদ্মের রাজ্য সভাপতি!

বিগত কয়েকদিনের সৌমিত্রর বয়ান যদি নিরপেক্ষভাবে দেখা হয় তাহলে, তিনি খুব ভুল বলেননি। এক, এখনও বিজেপির বুথস্তরে সাংগঠনিক দুর্বলতা। দুই, কেন্দ্রবদলে একাধিক নেতার হার। তিন, তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি। অনেকে বলছেন, তিন বার বিষ্ণুপুর থেকে জেতার পর সৌমিত্রকে এখন অনেক পরিণত লাগছে। ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক ঘাত-প্রতিঘাতের ঝড় সামলে ভোটে তাঁরই প্রাক্তন স্ত্রী সুজাতা মণ্ডলকে হারিয়েছেন। তিনি বোঝেন, এই জয় তাঁর কাছে সহজে আসেনি। মাত্র সাড়ে ৫ হাজার ভোটে তিনি জিতেছেন। এমনকি রেজাল্টের দিন শেষ পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে না থাকলে তৃণমূলের কর্মীজোরের কাছে তাঁকে হারতে হত বলেও অকপটে স্বীকার করেছেন। তাহলে এই মুহূর্তে সৌমিত্র ‘আসলে’ চাইছেনটা কী?

হ্যাটট্রিক করে সৌমিত্র দাবি ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব। কিন্তু আগের দু’বারের মতোই এবারও তা হয়নি। নতুন করে প্রতিমন্ত্রী হলেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে দফতর হাতে রাখলেন জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। বিজেপির কাছে এই সিদ্ধান্ত ছিল জলের মতো সহজ। যদি বিজেপি খারাপ ফল করে তাহলে রাজ্য সভাপতি পদে সুকান্তকে রাখা হবে না। কিন্তু, যেহেতু তিনি দু’বারের ‘সাংসদ রত্ন’, তাঁর আরএসএস ব্যাকগ্রাউন্ড, সুকান্তের গুরুত্ব এবার বাড়তই। বিজেপি ভালো ফল করলে তিনি হয়তো রাজ্য সভাপতি পদেই থেকে যেতেন এবং সেক্ষেত্রে বাংলা আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে পেত। আর মতুয়া সম্প্রদায়কে নিজের সঙ্গে রাখতে শান্তনুর থেকে যাওয়াটাও স্বাভাবিক একটা সিদ্ধান্ত। ফলে, এই ফলাফলের পর মন্ত্রিত্বে সৌমিত্রের কথা ভাবেইনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তা একেবারেই পরিষ্কার। কিন্তু, সৌমিত্র যে ভেবেছিলেন!

তিন বারের সাংসদ, মন্ত্রিত্ব চেয়েও মেলেনি, আসলে সৌমিত্র হতে চাইছেন পদ্মের রাজ্য সভাপতি!

তিন বারের সাংসদ, মন্ত্রিত্ব চেয়েও মেলেনি, আসলে সৌমিত্র হতে চাইছেন পদ্মের রাজ্য সভাপতি!

এখন, বিজেপির ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি অনুযায়ী সুকান্ত মজুমদারের রাজ্য সভাপতি ছেড়ে দেওয়াই কাম্য। সেক্ষেত্রে কে হবেন নতুন রাজ্য সভাপতি? কারণ, বছর দুয়েক পরেই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। কার হাতে দলের ব্যাটন তুলে দেবে বিজেপি? লাখ টাকার প্রশ্ন সত্যিই। অনেকে চাইছেন, দিলীপ ঘোষকে, কেউ শুভেন্দু অধিকারীকে, বা শমীক ভট্টাচার্য বা লকেট চট্টোপাধ্যায়, সমর্থকেরা অনেকের কথাই ভাবছেন। সেখানে সৌমিত্র খাঁ-এর কী কোনও সম্ভাবনা নেই?

বাকি নামগুলোর মধ্যে দিলীপ ঘোষের ফিরে আসার কিছুটা সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে। শুভেন্দুর আরএসএস ইতিহাস নেই। তাছাড়া তিনি বিরোধী দলনেতা পদেই থাকতে চান। লকেট বা শমীকের সম্ভাবনা খুব কম। সৌমিত্রর সম্ভাবনা এদের মধ্যে কিছুটা হলেও উজ্জ্বল। হ্যাঁ, তাঁরও আরএসএস ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। এটা রাজ্য সভাপতির মতো পদে বিচার করে থাকে বিজেপি। কিন্তু, যেটা বাকিদের নেই সেই তালিকায় সৌমিত্র সবার আগে। এই মুহূর্তে তিনিই বিজেপির মোস্ট সিনিয়র সাংসদ। তিন বারের। পাশাপাশি, তিনি সংগঠনের লোক। বিজেপির যুব মোর্চার বর্তমান রাজ্য সভাপতি। আর একটা বিষয়, তিনি সুকান্ত মজুমদারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।বন্ধু বললেও খুব ভুল হয়না। রাজ্য সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের সিদ্ধান্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিলেও সুকান্তর একটা অনুমোদন নেওয়া হবেই। এটা দলগত গণতন্ত্র। সেক্ষেত্রে, সৌমিত্র এই নামগুলোর চেয়ে বেশ অনেকটাই এগিয়ে তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত