নজরবন্দি ব্যুরো: বিরোধী জোটের নাম ‘ইউপিএ’ (UPA) থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) হয়েছে, এ কথা কমবেশি সকলেরই জানা। এই নামটির সুপারিশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেঙ্গালুরুতে ২৬টি বিরোধী দল সর্বসম্মতিক্রমে সেই নামেই স্বীকৃতি দেয়। আর এবার তৃণমূলের নকশাতেই পোস্টার তৈরি হল ‘ইন্ডিয়া’-র। তাহলে, স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিরোধী জোটে কী আধিপত্য বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের?
আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ মণিপুরে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া, নেতৃত্বে অধীর চৌধুরী


সাম্প্রতিক সময়ে মণিপুরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জনজাতিকরণকে কেন্দ্র করে কুকি এবং মেইতেই জনগোষ্ঠীর বিবাদ চরমে। যেহেতু সে রাজ্যে সরকারে রয়েছে বিজেপি তাই বিরোধী শিবির মণিপুর ইস্যুকে হাতিয়ার করে নিশানায় এনেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। বাদল অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির দাবি নিয়ে কার্যত লোকসভা ও রাজ্যসভায় অনাস্থা প্রস্তাবও আনা হয়েছে। আর আজ, শনিবার বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা উড়ে গেলেন উত্ত-পূর্বের রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে গেল তৃনমূলের নকশা করা পোস্টার।

এর আগেও তৃণমূলের তৈরি করা ‘ইন্ডিয়া’-র পোস্টার নিয়েই সংসদে বিক্ষোভ জানিয়েছিলেন বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। আর এবার মণিপুরেও সেই পোস্টার গেল। মূলত, ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সির থিমেই পোস্টারগুলি তৈরি করেছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, আগামী দিনেও তৃণমূলের তৈরি করা জার্সির থিমকে সামনে রেখেই বিভিন্ন ইস্যুতে পোস্টার তৈরি করার ভাবনাচিন্তা চলছে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে।



বিরোধী জোটের সলতে যখন প্রথম পাকতে শুরু করে তখন কংগ্রেসের সাথে কিছুটা দূরত্ব ছিল তৃণমূলের, এ কথা রাজনৈতিক বিষয়ে ওয়াকিবহাল অনেকেরই মনে থাকতে পারে। তৃণমূল মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-তে কংগ্রেসকে কদর্য ভাষায় আক্রমণও করা হয়। কটাক্ষ করা হয় রাহুল গান্ধীকে। আর এখন, বেঙ্গালুরুতে শেষ বৈঠকে রাহুল সনিয়ার মাঝে বসলেন মমতা। কংগ্রেসও জানিয়ে দিয়েছে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লালায়িত নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও এখনও পর্যন্ত তাই।

বিরোধী জোটে যেন ক্রমেই তৃণমূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে তার অন্যতম কারণ, বাংলাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব নির্বাচন ধরলে প্রায় ছয় বার বিজেপিকে রুখে দিয়েছেন। আর এই পরিসংখ্যানই প্রাধান্য পাচ্ছে সর্বভারতীয় স্তরে। আবার, বিরোধী জোটের অন্যান্য দলগুলির পাশে থেকে নিজেদের ঘুঁটি শক্ত করছেন তৃণমূল সাংসদরা। লোকসভা এবং রাজ্যসভাতেও কার্যকরী ভূমিকা নিচ্ছেন তাঁরা। ফলে সব মিলিয়ে তৃণমূল ‘সর্বভারতীয়’ তকমা খোয়ালেও সর্বভারতে নিজেদের উপস্থিতি কিন্তু বজায় রেখেই চলছে!
‘ইন্ডিয়া’ নাম মমতার, এবার তৃণমূলের নকশাতেই ছাপল পোস্টার, বিরোধী জোটে আধিপত্য বাড়ছে ঘাসফুলের?








