মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কি ধীরে ধীরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে? মার্কিন হামলায় ইরানের একটি রণতরী ধ্বংস হওয়ার পরই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই ইরানের আরেক যুদ্ধজাহাজ এসে নোঙর করেছে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে। ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। খবর অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি ইরানি রণতরী এসে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে।


শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা দিশানায়েকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার কলম্বো বন্দরে নোঙর করেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএনএস বুশেহর। জাহাজটিতে প্রায় ২০৮ জন ক্রু সদস্য রয়েছেন। পরে জাহাজটিকে ত্রিঙ্কোমালি বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে কেন ইরানের যুদ্ধজাহাজকে নিজেদের বন্দরে নোঙর করতে দিল শ্রীলঙ্কা? তবে শ্রীলঙ্কার সরকারের দাবি, জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় মানবিক কারণেই তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
অনুরা দিশানায়েকে বলেন, “কেউ যদি মানবিক কারণে সাহায্য চায়, আমরা নিরপেক্ষ থেকে তাকে সাহায্য করব। কারও প্রাণহানি আমরা চাই না।” জানা গিয়েছে, জাহাজ থেকে ক্রুদের নিরাপদে নামানো হয়েছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শ্রীলঙ্কা থেকে রপ্তানি হওয়া চায়ের অন্যতম বড় ক্রেতা ইরান। সেই কারণেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে খবর পাওয়া যাচ্ছে, মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়া ইরানের যুদ্ধজাহাজের নিহত সেনাদের দেহ কলম্বো থেকেই হস্তান্তর করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার মার্কিন টর্পেডো হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা। সেই ঘটনায় অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, আরও অনেকে নিখোঁজ।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই ঘটনার প্রসঙ্গে আমেরিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ভারতের সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিতে এসেছিল ওই জাহাজটি। ভারতীয় নৌসেনার অতিথি থাকা অবস্থাতেই সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা—যদি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ে, তবে তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়তে পারে। শ্রীলঙ্কার বন্দরে ইরানের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সেই উদ্বেগই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।







