ইসলামাবাদে বসতে চলা ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠককে ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ চরমে। আলোচনায় সমাধান মিলবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—সেই প্রশ্নের মাঝেই মুখ খুললেন Donald Trump। তাঁর দাবি, বৈঠক ভেস্তে গেলেও আমেরিকার জন্য ‘অন্য কোনও পরিকল্পনা’ প্রয়োজন নেই, কারণ ইরান ইতিমধ্যেই সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান এই যুদ্ধে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি কমেছে, উৎপাদন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন সেনা ইতিমধ্যেই বড় আঘাত হেনেছে।” তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—আমেরিকা নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী বলেই মনে করছে।


তবে আন্তর্জাতিক মহলে উঠছে অন্য প্রশ্নও। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, সংঘর্ষবিরতির মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আলোচনার আড়ালে কি আরও বড় সামরিক প্রস্তুতি চলছে?
এদিকে শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে রয়েছেন Abbas Araghchi এবং Mohammad Bagher Ghalibaf। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বৈঠকটি বহুমাত্রিক আলোচনার দিকে এগোতে পারে।
অন্যদিকে আমেরিকার প্রতিনিধিদলে রয়েছেন JD Vance, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং Jared Kushner। বৈঠকের আগে ভ্যান্স জানিয়েছেন, “আমরা ইতিবাচক আলোচনার প্রত্যাশা করছি।”


তবে ইরানের অবস্থানও স্পষ্ট। ঘালিবাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমঝোতার ইচ্ছা থাকলেও আমেরিকার উপর তাদের আস্থা নেই। তেহরান একাধিক শর্তও রেখেছে—লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন না করার দাবি।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই বৈঠক এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সমঝোতা হলে উত্তেজনা কমতে পারে, আর ব্যর্থ হলে—পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



