ক্রমশ আরও ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি, ইজরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র। ইজরায়েলের ডিমোনা পরমাণু কেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান, একই সময়ে পরমাণু সক্ষম ‘মিনিটম্যান-৩’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ক্রমশ আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সংঘাতের ষষ্ঠ দিনেও ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে তেহরান সরাসরি ইজরায়েলের পরমাণু স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে আমেরিকা পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘মিনিটম্যান-৩’ পরীক্ষা করে সামরিক শক্তির বার্তা দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ইরানের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইতিমধ্যেই ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পালটা কৌশল হিসেবে ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইজরায়েলের অঘোষিত ডিমোনা পরমাণু কেন্দ্রকে লক্ষ্য করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমোনা পরমাণু কেন্দ্রে যদি কোনও ধরনের হামলা হয়, তা হলে তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ালে শুধু ইজরায়েল নয়, প্রতিবেশী জর্ডনসহ পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে সংঘাতের আবহেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করল আমেরিকাও। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ সামরিক ঘাঁটি থেকে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘মিনিটম্যান-৩’-এর পরীক্ষা করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্তাদের দাবি, এটি একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং চলমান ইরান সংঘাতের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। ক্ষেপণাস্ত্রটি হাজার মাইল দূরে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করেছে বলেও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিনিটম্যান-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৬ হাজার মাইল এবং এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইলেরও বেশি। মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমায় ব্যবহৃত ‘লিটল বয়’ পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।

এদিকে ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিনের হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। সেই ঘটনার পর আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের তরফে বলা হয়েছে, এই হামলার ‘পরিণতি ভুগতে হবে’।

সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে পারমাণবিক হুমকি ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত