মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার নতুন মোড় নিচ্ছে—মাঠে নয়, সরাসরি প্রযুক্তির জগতে। ইরানের শীর্ষ সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps ঘোষণা করেছে, তারা মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির পশ্চিম এশিয়ার ইউনিটে হামলা চালাতে প্রস্তুত। ‘হিট লিস্টে’ রয়েছে বিশ্বের নামী ১৮টি টেক কোম্পানি, যার মধ্যে আছে Microsoft, Google, Apple, Intel, IBM, Tesla এবং Boeing।
ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার বদলা হিসেবেই এই পদক্ষেপ। ঘোষণা অনুযায়ী, ১ এপ্রিল রাত থেকে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত এই সংস্থাগুলির কার্যক্রম লক্ষ্য করে হামলা শুরু হতে পারে। লক্ষ্য—এই বহুজাতিক সংস্থাগুলির আঞ্চলিক অপারেশন ভেঙে দেওয়া এবং মার্কিন প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করা।


বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে চাপে পড়ে ইরান এবার ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’-এর পথে হাঁটছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে নিশানা করা মানে শুধু অর্থনৈতিক আঘাত নয়, বরং আন্তর্জাতিক বার্তা দেওয়াও—যুদ্ধ এখন বহুমাত্রিক।
এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একাধিক সংঘর্ষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে তেহরান।
ইরান ইতিমধ্যেই কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন সূত্রের।


আন্তর্জাতিক স্তরে পরিস্থিতি শান্ত করতে Russia, China, Spain এবং India-সহ একাধিক দেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই পিছু হটার ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই সাইবার ও প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক সংঘাত কি আরও বড় বৈশ্বিক সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



