পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় কূটনৈতিক বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছেন, যদি কোনও দেশ ইরানের উপর হামলায় মদত না দেয়, তবে ইরানও আর কোনও প্রতিবেশী দেশের উপর আক্রমণ চালাবে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবিকেও তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি, জানিয়ে দিয়েছেন—এই স্বপ্ন নিয়েই ট্রাম্পকে সমাধিস্থ হতে হবে।
ইরানের অন্তর্বর্তী শাসন কাউন্সিল ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ান। তাঁর দাবি, ইরানের লক্ষ্য যুদ্ধ ছড়ানো নয়, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তাই অন্য দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলার অংশ না হয়, তবে ইরানও আক্রমণের পথ থেকে সরে থাকবে।


তবে একই সময় পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শনিবার সকাল থেকে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, রাতভর হামলায় ৮০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ২৩০টি বোমা ফেলা হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হামলায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ইসফাহান শহর নয়, আশপাশের আরও সাতটি শহরকে নিশানা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। হামলায় অন্তত ৮০টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলাও শুরু হয়েছে। ইজ়রায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজ়রায়েলি সেনা। জেরুসালেম-সহ বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজতে শুরু করে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।


এই যুদ্ধের আঁচ পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরও একাধিক দেশে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, সেই ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ড্রোনও ভোরের দিকে প্রতিহত করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার খবর সামনে এসেছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বিমানবন্দরের একাধিক স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে।
পাশাপাশি লেবাননেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা জানিয়েছে, তারা ইজ়রায়েলের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং পাল্টা হামলাও চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়া ইতিমধ্যেই তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে শুরু করেছে। যদিও মস্কো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। যুদ্ধের আগুন যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সেই দিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের।







