মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ক্রমশ আরও বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র বাসভবন ও কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সোমবার ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই দাবি করে বিবৃতি প্রকাশ করে। তবে ইজরায়েলি প্রশাসন দ্রুতই সেই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে—নেতানিয়াহুর অফিসে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়নি।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ কমান্ড সেন্টারও হামলার লক্ষ্য ছিল। যদিও স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি।

পাল্টা দাবি ও তথ্যযুদ্ধ
ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষ যত এগোচ্ছে, ততই তথ্যযুদ্ধও তীব্র হচ্ছে। একদিকে ইরানের হামলার দাবি, অন্যদিকে ইজরায়েলের সরাসরি অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও এই ধরনের দাবি সামনে আসতে পারে।
কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা
এর মধ্যেই কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একাধিক মার্কিন সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তবে কোনও প্রাণহানি হয়নি এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন। বিমানগুলির মডেল বা দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান মরুভূমিতে ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত—কোনও দেশই এখনও সেই ফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।


দূতাবাসের কাছে ধোঁয়া, বাড়ছে উদ্বেগ
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকায় কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাওয়ার খবরও সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছয়। তবে সেটি হামলার ফল নাকি আলাদা দুর্ঘটনা—তা এখনও পরিষ্কার নয়।
অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়া
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযানে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।







