ঘরের ভিতরে তীব্র বিক্ষোভ, বাইরে আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারি—এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই আচমকা নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিল ইরান। বুধবার রাতেই প্রথমে দু’ঘণ্টার জন্য আকাশপথ বন্ধ রাখা হয়, পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় খামেনেই প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের একাধিক আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবায়। বিশেষ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যগামী যে রুটগুলিতে ইরানের আকাশপথ ব্যবহার করা হত, সেগুলি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার জেরে সংশ্লিষ্ট রুটের ফ্লাইটে বিলম্ব কিংবা বাতিলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। যাত্রীদের জন্য ইতিমধ্যেই অ্যাডভাইজ়রি জারি করেছে সংস্থা। বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত ইরানের আকাশপথ বাণিজ্যিক বিমানের জন্য বন্ধ থাকায় বহু ফ্লাইটকে বিকল্প বা ঘুরপথে চালাতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় বাড়ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার ঘুরপথে চালানো সম্ভব না হলে ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এয়ার ইন্ডিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রু-দের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শুধু এয়ার ইন্ডিয়া নয়, ইরানের আকাশপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালায় ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট-ও। ফলে এই দুই সংস্থার পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্ডিগো জানিয়েছে, ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের রি-বুকিং অথবা সম্পূর্ণ রিফান্ডের সুযোগ দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতির আঁচ আগেই পেয়েছিল নয়াদিল্লি। বুধবারই ভারত সরকার ইরানে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশিকা জারি করে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরান থেকে দেশে ফিরতে চাওয়া ভারতীয়দের যাত্রাপথ নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।
লাইভ ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট Flightradar24-এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ফ্লাইট 6E1808-ই ছিল ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার করা শেষ ভারতীয় উড়ান। জর্জিয়ার তিবিলিসি থেকে দিল্লিগামী ওই বিমানটি বৃহস্পতিবার ভোর ২টা ৩৫ মিনিটে ইরানের আকাশসীমা অতিক্রম করে সকাল ৭টা ০৩ মিনিটে দিল্লিতে অবতরণ করে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা ভারতীয় বিমান পরিষেবায় স্বল্পমেয়াদে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা। যাত্রীদের জন্য পরামর্শ—যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ।








