নজরবন্দি ব্যুরোঃ IPS বনাম IPS এর লড়াই, একজন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বলতেন জঙ্গল মহলের মা। পরবর্তীকালে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কার্যত জলগ্রহণ করেন না যিনি তাঁর নাম ভারতী ঘোষ। প্রাক্তন দাপুটে আইপিএস অফিসার। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ভারতী বিজেপি তে যোগ দেন বছর ২ আগে। তারপরেই ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী পদ্ম প্রতীকে। কিন্তু পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী দেব এর কাছে। সেই ভারতী ঘোষ কে আবার প্রার্থী করেছে বিজেপি। এবার তাঁর লক্ষ্য ডেবরার আসন জয়।
আরও পড়ুনঃ ভোটে হারলে মমতার কাছে নিজের মৃতদেহ পাঠানোর চ্যালেঞ্জ তাপস চট্টোপাধ্যায়ের।


বিজেপি লোকসভার ভিত্তিতে যে ১২১ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তাঁর মধ্যে ডেবরা একটি। এই আসনে লোকসভায় বিজেপি প্রার্থীর লিড ছিল সাড়ে ৪ হাজার ভোট। আর প্রার্থী ছিলেন বলা বাহুল্য প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ। কিন্তু এগিয়ে থাকা আসনে জিততে পারবেন ভারতী? দিলীপ ঘোষ যে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র কথা বারবার বলেন। এই আসনে এবার সেই পন্থা নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমবেশি খবর ছিল বিজেপি-র পক্ষে এই আসনে লড়াই করবেন প্রাক্তন আইপিএস ভারতী হয়েছেও তাই।
অন্যদিকে পরিস্থিতি আন্দাজ করে আগেভাগেই এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছেন প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর কে। অর্থাৎ আইপিএস বনাম আইপিএস-এর লড়াই হচ্ছে ডেবরায়। যে কারনে আপাত অখ্যাত এই আসন আচমকাই হেভিওয়েট কেন্দ্র। হুমায়ুন আইপিএস হওয়ার কারনে অন্য আইপিএসের গতিবিধি কি হতে পারে তা ভালই আন্দাজ করতে পারবেন, অন্যদিকে সাধারণ প্রার্থীর তুলনায় বিপরীতে তারই সমগোত্রীয় প্রার্থী থাকায় কিছুটা কঠিন হয়ে গিয়েছে ভারতীর লড়াই।
IPS বনাম IPS এর লড়াই, তবে আসনটিতে শুধু ভোট নয় একাধিক কারনে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে। যে কারনে হুমায়ুনের লড়াই টা বেশ কঠিন। হুমায়ুন কবীর ডেবরার ভূমিপুত্র। কিন্তু সেভাবে ডেবরা কে চেনেন না তিনি। তাঁর ওপর ডেবরা বিধানসভায় তৃণমূলের ব্যাপক গোষ্ঠী দ্বন্দ রয়েছে। যে কারনে গতবারের জেতা প্রার্থী অর্থাৎ সেলিমা খাতুন কে প্রার্থী করেন নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুতরাং লড়াই কঠিন হুমায়ুনের কাছে।


কিন্তু কি বলছেন হুমায়ুন? পিছিয়ে থাকা আসনে প্রার্থী হয়ে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর বলছেন, খেলা হবে, কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু খেলা হবে গণতান্ত্রিক ভাবে। উল্লেখ্য লোকসভার ভিত্তিতে ডেবরা আসনে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ এগিয়ে রয়েছেন ৪ হাজার ২২৯ ভোটে। এখন দেখার শেষ হাসি হাসেন কে।







