সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি হোটেলে যখন রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক চলছে, নেতৃত্বে জে পি নড্ডা, ঠিক তখনই আচমকা উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নিরাপত্তা বাহিনীর এক শীর্ষ আইপিএস। মুহূর্তের এই উপস্থিতি, সংক্ষিপ্ত মন্তব্য—“একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম”—আর তড়িঘড়ি প্রস্থান ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল তুঙ্গে ওঠে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছিল। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর তল্লাশি চলছিল। আইপ্যাক বর্তমানে তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তল্লাশির খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই প্রতীকের বাড়ি এবং পরে সেক্টর ফাইভের দফতরে পৌঁছন, সেখানেই অপেক্ষা করবেন বলেও জানান। এই আবহেই, দেড় কিলোমিটারের মধ্যবর্তী হোটেলে বিজেপির শীর্ষ বৈঠক চলাকালীন ডিআইজি (নিরাপত্তা) সুমিত কুমারের আকস্মিক উপস্থিতি আলাদা তাৎপর্য পায়।

জানা যায়, হোটেলের যে সম্মেলনকক্ষে নড্ডার নেতৃত্বে বৈঠক হচ্ছিল, তার করিডরের কাছাকাছি পর্যন্ত এগিয়ে যান ওই আইপিএস কর্তা। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা নজরে পড়তেই তিনি পিছন ঘুরে একই পথে বেরিয়ে যান। বাইরে গাড়ির জন্য অপেক্ষার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে মাত্র এক লাইনের জবাব—“একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম”—বলেই তিনি প্রস্থান করেন।
এই খবরে বৈঠককক্ষের বাইরেও আলোড়ন পড়ে। বিজেপির জেলা সভাপতি, সাংগঠনিক আহ্বায়ক এবং প্রথম সারির নেতাদের আপ্তসহায়কেরা নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি দ্রুতই বৈঠককক্ষের ভেতরেও পৌঁছে যায়। কেন এমন দিনে, এমন সময়ে, এমন জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা শাখার শীর্ষ আধিকারিকের উপস্থিতি—এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।










