তেলের দামে আগুন, ৯৬ পার করল ডলার! আরও দুর্বল ভারতীয় রুপি, চাপে শেয়ারবাজারও

অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় চাপে ভারতীয় রুপি। ডলারের বিপরীতে ৯৬-এর নীচে নামার পর শেয়ারবাজারেও দেখা দিয়েছে চাপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় ফের দুর্বল হল ভারতীয় রুপি। ডলারের বিপরীতে মঙ্গলবার সকালে ৯৬.০৫ টাকা দরে লেনদেন শুরু করে ভারতীয় মুদ্রা, পরে সকাল ১০টা ৩২ মিনিট নাগাদ তা নেমে যায় ৯৬.০৭-এ। আগের দিনও রুপির দর ০.২ শতাংশ কমে ৯৫.৯৮২৫-এ বন্ধ হয়েছিল।

রুপির উপর চাপের অন্যতম বড় কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০৭ ডলারের উপরে উঠেছিল। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আগের দিনের হিসাব অনুযায়ী ব্রেন্টের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল-পিছু ১০৮.২ ডলারে পৌঁছনোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের মতো বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং আমদানি খরচের উপর চাপ তৈরি হয়। সেই কারণেই তেলের দামের ওঠানামা ভারতীয় মুদ্রার বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

কেন পড়ছে রুপির দাম?

তেলের দাম ছাড়াও একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ এই মুহূর্তে রুপির উপর চাপ তৈরি করছে। ডলার সূচক, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড এবং বিশ্ববাজারে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা—সবকিছুর প্রভাব পড়ছে ভারতীয় মুদ্রায়। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর রুপি ৯৬.১৪৫০ প্রতি ডলার পর্যন্ত নেমেছিল, যা প্রায় দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ১০৭ ডলারে পৌঁছয়।

এর পিছনে পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বড় কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে বলে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাবাজার এবং মূল্যস্ফীতির উপর।

এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)-র পদক্ষেপের দিকেও। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে ডলার বিক্রির ফলে রুপির উপর তৈরি চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল বলে বাজারে ধারণা রয়েছে।

শেয়ারবাজারেও চাপ

রুপির দুর্বলতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, সেনসেক্স ১,১২৪.০২ পয়েন্ট পড়ে ৭২,৭৭১.৭২-এ বন্ধ হয়। নিফটি-৫০-ও ১.৫৬ শতাংশ কমে যায়। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এই পতনকে গত ছয় মাসের মধ্যে সূচকের সর্বনিম্ন স্তরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

রয়টার্সের হিসাবেও তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড বাজারের উপর চাপ তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় সম্পদ থেকে অর্থ প্রত্যাহারও রুপির উপর অতিরিক্ত চাপ বাড়িয়েছে।

এই মুহূর্তে তাই নজর তিনটি বিষয়ের দিকে—অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলারের বিপরীতে রুপির অবস্থান। এই তিন ক্ষেত্রের পরিবর্তনই আগামী দিনে ভারতীয় মুদ্রা ও বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন