তেলের দামে ঝড়, চাপে ভারতীয় মুদ্রা! ডলারের সামনে রুপি নামল ৯২.৩৩-এ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তেই ডলারের সাপেক্ষে রুপির বড় পতন। বিনিময়দর নেমে এল ৯২.৩৩-এ, বাড়ল আমদানি খরচ ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়তেই চাপ বাড়ল ভারতীয় রুপির উপর। সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় মুদ্রা। সোমবার ডলারের সাপেক্ষে রুপির বিনিময়দর ৫৯ পয়সা কমে ৯২.৩৩ স্তরে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় পতন। মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

গত শুক্রবার ডলারের সাপেক্ষে রুপির বিনিময়দর ছিল প্রায় ৯১.৭৪। এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ০.৫০ শতাংশের বেশি পতন হয়েছে ভারতীয় মুদ্রার।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৮ মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে। গত সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে

ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য এই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ দেশ তার মোট তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচও দ্রুত বেড়ে যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রুপির সাম্প্রতিক পতনের পিছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।

প্রথমত, তেলের দাম বাড়ায় ভারতের আমদানি বিল বেড়ে যায়। এতে বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন বাড়ে এবং ডলারের চাহিদা বাড়ার ফলে রুপি দুর্বল হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে কিছুটা অর্থ তুলে নিচ্ছেন। তারা শেয়ার বা সম্পদ বিক্রি করে সেই অর্থ ডলারে রূপান্তর করছেন। এর ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা আরও বাড়ছে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। সাধারণত ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলি চাপের মুখে পড়ছে।

রুপি দুর্বল হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতির উপর। বিশেষ করে আমদানি নির্ভর পণ্য—যেমন অপরিশোধিত তেল—আরও বেশি দামে কিনতে হতে পারে। এতে দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দুর্বল রুপির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল বা অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্প সংস্থাগুলি সাধারণত ডলারে আয় করে। রুপি দুর্বল হলে সেই ডলার আয়ের মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় রূপান্তরের সময় বেশি হয়, ফলে এই সংস্থাগুলি কিছুটা লাভবান হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত