বছরের শুরুতেই ধাক্কা! মোদীর ভারতে জানুয়ারিতে বেকারত্ব বেড়ে ৫ শতাংশ, প্রশ্নের মুখে কর্মসংস্থানের ছবি

ডিসেম্বরে ৪.৮ শতাংশ থেকে জানুয়ারিতে ৫ শতাংশে বেকারত্ব; গ্রাম-শহর দুই ক্ষেত্রেই কাজের গতি কমায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নতুন বছরের শুরুতেই দেশের কর্মসংস্থানের চিত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়াল কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। জানুয়ারি মাসে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়াল ৫ শতাংশে, যা ডিসেম্বরের তুলনায় বেশি। শহর ও গ্রাম—দুই ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের গতি মন্থর হওয়ায় শিক্ষিত বেকারত্বের প্রশ্ন ফের সামনে চলে এসেছে।

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি মন্ত্রকের অধীনস্থ জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস (এনএসও)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বেকারত্বের হার ছিল ৪.৮ শতাংশ। জানুয়ারিতে তা বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির ফলে বছরের শুরুতেই কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে গ্রাম ও শহর—দুই ক্ষেত্রেই বেকারত্বের হার বেড়েছে। একই সঙ্গে শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার (এলএফপিআর) এবং শ্রমিক জনসংখ্যা অনুপাত (ডব্লিউপিআর) কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্ব বৃদ্ধির পিছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মৌসুমি প্রভাব, ফসল কাটার পর কৃষিক্ষেত্রে কাজের গতি কমে যাওয়া এবং কৃষিকাজে আগ্রহের ঘাটতি।

সরকারি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, শীতকালে নির্মাণ, পরিবহণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মতো ক্ষেত্রগুলিতে কাজের গতি কিছুটা কমে যায়। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থানের উপর। ফলে এই সময় বেকারত্বের হার কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক প্রবণতা।

তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাময়িক কারণ থাকলেও দেশে কর্মসংস্থানের সামগ্রিক ঘাটতি এখনও বড় সমস্যা। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চেষ্টা হলেও পরিস্থিতির তেমন বড় পরিবর্তন হয়নি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসেই দেশের বেকারত্বের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক রিপোর্টও সামনে আনা হচ্ছে। তবু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ এখনও কাটেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন