ভারতে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে, মোদীকে পাশে নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া বার্তা পুতিনের

মোদীর উপস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানালেন—ভারতের জন্য তেল, গ্যাস ও কয়লার নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় থাকবে; ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে কার্যত উড়িয়ে দিলেন পুতিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতে তেল সরবরাহ নিয়ে মার্কিন চাপে কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল কয়েক সপ্তাহ ধরেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চলতি বছরের মধ্যেই ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ভারতে তেল সরবরাহ নিয়ে যে বার্তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিলেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করল। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা—ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও জ্বালানির সরবরাহ আগের মতোই চলবে।

হায়দরাবাদ হাউসের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে পুতিন বলেন, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের এক অন্যতম নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের চাহিদা মতো তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ তাদের অগ্রাধিকার ছিল এবং থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে বহু দেশ পিছিয়ে গেলেও রাশিয়া ভারতকে সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত। ফলে ট্রাম্পের দাবি বা হুমকি—কোনওটাই দিল্লি-মস্কো সম্পর্কের ওপর কোনও বাস্তব প্রভাব ফেলল না বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

Shamim Ahamed Ads

ভারতে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে, মোদীকে পাশে নিয়ে ট্রাম্পকে কড়া বার্তা পুতিনের

যে সময়ে পুতিন এই ঘোষণা দেন, সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও মোদী এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি, কূটনৈতিক মহলের মতে তাঁর মুখের আত্মবিশ্বাসী হাসিই অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে। কারণ জ্বালানি খাতে ভারত-রাশিয়ার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গত কয়েক বছরে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও সেই সম্পর্ক অটুটই থেকেছে।

ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, মোদী নাকি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন—ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাবে। এমনকি মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফও চাপিয়েছে এই ইস্যুতেই। তবে ভারত সরকার এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে এবং কোনও পাল্টা বিবৃতিও দেয়নি। বাস্তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমেছে কিনা, তা নিয়েও দিল্লি কিছু জানায়নি। এই অবস্থায় পুতিনের মুখে সরাসরি ঘোষণা—ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক পহেলগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছিল রাশিয়া। পুতিন ফের জানালেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে ভারতকে তারা সর্বস্তরে সমর্থন করবে। তাঁর কথায়, ভারত ও রাশিয়া বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করছে। তারা বিশ্বাস করে—দুই দেশের এই যৌথ লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় সেনার সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরল সমর্থনও জানিয়েছিল মস্কো।

এ দিন কিছুটা হালকা মুহূর্তও তৈরি করেন পুতিন। আগের দিনের ডিনারের প্রশংসা করে মোদীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। SCO সামিটসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁদের আলাপ-আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। দুই নেতা যে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছেন, তা তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়। আর সেই সম্পর্কই আজ ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই অবস্থান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—ভারতকে ঘিরে মার্কিন কূটনৈতিক চাপ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি বাজার হিসেবে ভারত আজ রাশিয়ার জন্য অপরিহার্য। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও ভারত তার কৌশলগত স্বাধীনতা ছাড়তে রাজি নয়। ভারত-রাশিয়া জ্বালানি বাণিজ্য তাই আগামী সময়েও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে থাকবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত