দিনদশেক পর থেকেই ঘরের মাঠে শুরু হচ্ছে ভারতের নিউজিল্যান্ড সিরিজ। সেই সিরিজের জন্য শনিবারই দল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তার আগে নির্বাচনী বৈঠকের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দু’জন—মহম্মদ শামি এবং ঋষভ পন্থ। একজন অভিজ্ঞ পেসার, অন্যজন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ—দু’জনকেই ঘিরে প্রশ্ন ও সম্ভাবনা পাশাপাশি ঘুরছে।
শামির প্রত্যাবর্তন কি এখনও খোলা?
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি মহম্মদ শামি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি। বিজয় হাজারে ট্রফিতে তিন ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি পাটা উইকেটে ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, একের পর এক ম্যাচ খেলেই শামি কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন—ফিটনেস নিয়ে আর কোনও প্রশ্নচিহ্ন নেই।


এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে শামির প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামনের বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ। যদি শামিকে বিশ্বকাপ ভাবনায় রাখা হয়, তবে এই সিরিজ থেকেই তাঁর ফেরার রাস্তা তৈরি হতে পারে। শামি বর্তমানে রাজকোটে বাংলার দলে রয়েছেন। রাজ্য শিবির সূত্রে খবর, জাতীয় দলে ডাক এলে বাংলার শেষ দু’টি ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না—সেই হিসাব কষেই বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পন্থের জায়গা কি নড়বড়ে?
একসময় যিনি ‘অটোমেটিক চয়েস’ বলে ধরা হতেন, সেই ঋষভ পন্থকেই এখন নতুন করে প্রমাণ দিতে হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের পর তাঁর শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোচিং স্টাফ প্রকাশ্যে নাম না করলেও বার্তা ছিল স্পষ্ট—‘হাই রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড’ ব্যাটিং সবসময় গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে।
এই বার্তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিজয় হাজারেতেও। পন্থ নিজের ব্যাটিং টেমপ্লেটে কিছুটা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। যদিও চার ম্যাচে একটি হাফসেঞ্চুরি ছাড়া বড় ইনিংস এখনও আসেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে দলে থাকলেও তাঁকে খেলানো হয়নি—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


জুরেল ও ঈশান কিষানের নামও আলোচনায়
শুধু পন্থ নন, উইকেটকিপার হিসেবে আলোচনায় আছেন ধ্রুব জুরেলও। বিজয় হাজারেতে একটি বড় শতরান করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঈশান কিষানও আবার দৌড়ে। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ঈশান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে—ওয়ানডেতেও কি তাঁকে ভাবা হবে?
তবে বাস্তবতা একটাই। ওয়ানডেতে লোকেশ রাহুল নিয়মিত উইকেটকিপিং করছেন। ফলে ১৫ জনের স্কোয়াডে তিন জন উইকেটকিপার রাখার সম্ভাবনা কম। পন্থ, জুরেল ও ঈশানের মধ্যে একজনই সুযোগ পেতে পারেন।
পাড়িক্কলের দুরন্ত ফর্ম নজরে নির্বাচকদের
নির্বাচনী আলোচনায় আর একটি নাম ঘুরছে জোরালোভাবে—দেবদূত পাড়িক্কল। বিজয় হাজারে ট্রফিতে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন তিনি। চার ম্যাচে তিনটি শতরান নির্বাচকদের নজর এড়ানোর মতো নয়। মিডল অর্ডার বা ওপেনিং—দুই জায়গাতেই বিকল্প হিসেবে তাঁর নাম উঠছে।
সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল নির্বাচন শুধু আসন্ন সিরিজ নয়, বরং সামনের বিশ্বকাপ ভাবনার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে চলেছে।







