দীর্ঘদিন ধরে একটাই অবস্থান ছিল নয়াদিল্লির—ভারতের জাতীয় স্বার্থ যেখানে সুরক্ষিত, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে। রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনা নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলির চাপ সত্ত্বেও সেই নীতিতে অনড় ছিল ভারত। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা হতেই অবস্থানে সূক্ষ্ম বদলের ইঙ্গিত দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা—তবে কি ধীরে ধীরে রুশ তেলের উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে ভারত?
এক সাক্ষাৎকারে গোয়েলকে প্রশ্ন করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত মেনে কি ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে? সরাসরি সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে আপাতত বিদেশমন্ত্রক কাজ করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, অশোধিত তেল, এলএনজি বা এলপিজি—আমেরিকা থেকে এই সব জ্বালানি কেনা ভারতের স্বার্থেই হতে পারে।

গোয়েলের কথায়, “আমরা তেল কেনার জন্য আরও বিকল্পের সন্ধান করছি। কোথা থেকে কেনা হবে, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ভারতীয় সংস্থাগুলির উপরেই।” অর্থাৎ, বাজারের পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক হিসেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির শর্ত হিসেবে কি রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক শিথিল করছে ভারত?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাণিজ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই তত্ত্বেরই আভাস মিলেছে। যদিও সরকারি ভাবে রুশ তেল আমদানি বন্ধের ঘোষণা এখনও হয়নি।


এরই মধ্যে একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানোর কথা ভাবছে। তবে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে না বলেও সূত্রের দাবি। কারণ, ভারতের কিছু রিফাইনারির জন্য রুশ তেলের বিকল্প এখনও সীমিত।
সব মিলিয়ে, ভারতের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে বিকল্প উৎসের খোঁজে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি—এটা স্পষ্ট। সামনে বাজার পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক সমীকরণই ঠিক করবে, রুশ তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা কতটা কমবে।








