‘সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ করুন, না হলে পাবেন না জল’, সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ভারতের

সিন্ধু জল চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা দিল ভারত। সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ না করলে আগের কাঠামোয় এই চুক্তি পুনরায় কার্যকর হবে না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে বড় বার্তা দিল নয়াদিল্লি। সরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক জলবণ্টন চুক্তি আগের রূপে আর কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভবিষ্যতে নতুন কোনও জলবণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে তার আগে পাকিস্তানকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সব ধরনের মদত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই (Press Trust of India – PTI)-কে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ৬৫ বছরেরও বেশি পুরনো এই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হলেও তা বর্তমান কাঠামোর ভিত্তিতে হবে না। বরং সংশোধিত ও নতুন একটি কাঠামো তৈরি করে তবেই ভবিষ্যতের জলবণ্টন ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হতে পারে। ভারতের মতে, সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা এই চুক্তি পুনরায় চালুর পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিন্ধু জল চুক্তিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কোনও বাস্তব সম্ভাবনা নেই। যদি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে নতুন করে সমঝোতা হয়ও, তা সম্পূর্ণ নতুন শর্ত ও কাঠামোর ভিত্তিতে হবে। সেই আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই অবস্থান এমন সময় সামনে এল, যখন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও (Pahalgam)-এ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপও ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র।

ভারতের দাবি, হামলার পিছনে ছিল দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (The Resistance Front – TRF), যাকে লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba)-র একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর ভারত অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানে অবস্থিত বলে দাবি করা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।

তবে সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, এই মুহূর্তে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সিন্ধু জল চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে না। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেশের স্বার্থবিরোধী মনে হলে যে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা তা থেকে সরে আসার অধিকার ভারতের রয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের পদক্ষেপের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি পাকিস্তানের জলসংকটের দাবিও নাকচ করেছে ভারত। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, পাকিস্তানে জলাভাবের জন্য ভারতের পদক্ষেপ দায়ী নয়। বরং দুর্বল জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্যাপক অপচয়, পাইপলাইনের লিকেজ এবং বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধই সেখানে জল ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে।

ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভবিষ্যতে সিন্ধু জল চুক্তির ভাগ্য শুধু কূটনৈতিক আলোচনার উপর নির্ভর করবে না; বরং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ রোধে পাকিস্তানের বাস্তব পদক্ষেপই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন