মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য-সহ ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চুক্তি করল ভারত ও ফ্রান্স। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক অগ্রগতির পরই এই নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করল বলে মত কূটনৈতিক মহলের।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সস্ত্রীক ভারতে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সোমবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে পৌঁছন তিনি। মঙ্গলবার নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা। আলোচনায় উঠে আসে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ একাধিক কৌশলগত বিষয়।


বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, ফ্রান্স ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু এবং পারস্পরিক আস্থা এই সম্পর্কের ভিত্তি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “রাফালে যুদ্ধবিমান থেকে সাবমেরিন— প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারত ফ্রান্সের অন্যতম বিশ্বস্ত কৌশলগত সহযোগী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ম্যাক্রোঁ সফরের শুরুতেই দিল্লিতে আন্তর্জাতিক এআই সামিটে অংশ নেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।


চুক্তির ২০টি বিষয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির রূপরেখা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে প্রতিটি চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ভারত-ফ্রান্স ঘনিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।







