নজরবন্দি ব্যুরো: বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জনসংযোগে জোর দেওয়া হচ্ছে। এদিকে এই সময়েই ইন্ডিয়া জোটে (INDIA Bloc meeting) সদস্যদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা গিয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে মল্লিকার্জুন খাড়গের নাম প্রস্তাব করেছেন। এনিয়েই ভিন্ন মত শোনা গেল শরদ পাওয়ারের মুখে। তবে কি লোকসভা ভোটের আগেই ইন্ডিয়া জোট ভাঙনের পথে, এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



আরও পড়ুন: ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী, লোকসভায় অর্জুন কে টিকিট দেবেনা তৃণমূল!
সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার জানিয়েছেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ ছাড়াও লড়াই করে জয় পাওয়া সম্ভব। এই প্রসঙ্গে ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৭-এর ভোটে প্রধানমন্ত্রীর মুখ ছিল না। নির্বাচন শেষ হলে মোরারজি দেশাইকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ না থাকলেও অসুবিধা হবে না বলেই মনে করছেন এনসিপি সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘মানুষ পরিবর্তন আনতে চাইলে যেকোনও উপায় সেই পরিবর্তন আসবে।’

শরদ পাওয়ারের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাব খারিজ করছেন এনসিপির প্রবীণ নেতা। দুজনের মতপার্থক্য কী জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবে? হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে ফাটল ইন্ডিয়া জোটে? তবে এখনও এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা লিখেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাতে খুশি ছিল না কংগ্রেসও। কিন্তু শরদ পাওয়ার জানিয়েছেন তিনি বিরোধী জোটের সঙ্গে বিরোধিতা করবেন না।’


মমতা-শরদের মতে পার্থক্য, ইন্ডিয়া জোটে ভাঙনের সুর!

উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নাম প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।







