বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এক মঞ্চে দেখা গেল বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের। ডিএমকে, আপ এবং কয়েকটি শরিক দলের অনুপস্থিতি ভাঙনের জল্পনা উসকে দিলেও বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, আরজেডি-সহ একাধিক বিরোধী দলের প্রতিনিধি। তবে বৈঠকের আগেই ডিএমকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। আপও বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল। অন্যদিকে, আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চাও।


বৈঠক থেকে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, সোনিয়া গান্ধীর ঠিক পাশেই বসে রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অন্য পাশে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠকের মাঝেই তাঁদের মধ্যে আলোচনা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্পর্ক তীব্র তিক্ততায় পৌঁছেছিল। রাজ্যে দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছিল কংগ্রেস নেতৃত্বের। এরপর থেকেই বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়।


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়টি এবার আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈঠকে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জোর জল্পনা রয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি বিজেপি-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কংগ্রেস নয়, বাম এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলিকেও বৃহত্তর জোটের অংশ হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে শরিকদের একাংশের অসন্তোষ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলের অনুপস্থিতি এবং নেতৃত্বের প্রশ্ন— সব মিলিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সামনে এখনও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দিল্লির এই বৈঠক বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভাঙনের জল্পনার মাঝেও বিরোধী শিবিরকে একজোট রাখার চেষ্টা যে জোরদার হয়েছে, দিল্লির বৈঠকের বার্তা আপাতত সেটাই।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



