ভোটের আগে একের পর এক ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে আশা কর্মী, অঙ্গনওয়ারি, সিভিক ভলান্টিয়র—অনেক ক্ষেত্রেই সাম্মানিক বেড়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় নাম নেই ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের। আর তাতেই সংখ্যালঘু মহলের একাংশে ক্ষোভ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজ্য বাজেটে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি হলেও ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সাম্মানিক অপরিবর্তিত থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। জলপাইগুড়ির গরালবাড়ি মসজিদের ইমাম জাহিরুল ইসলাম, যিনি তৃণমূল প্রভাবিত ইমাম সংগঠনের ব্লক সভাপতি, স্পষ্ট বলেন, “সবাই কমবেশি ভাতা বৃদ্ধি পেল, কিন্তু আমাদের জন্য কিছুই হল না। বর্তমান বাজারদরে মাসে ৩০০০ টাকায় কিছুই হয় না। অন্তত ৫০০ টাকা বাড়লে বুঝতাম সরকার আমাদের কথাও ভাবছে।”
একই সুর শোনা গিয়েছে চরকডাঙি জামা মসজিদের মোয়াজ্জেম আব্দুল মজিদের গলায়। তাঁর কথায়, “বাজারে আগুন দাম। এই সামান্য ভাতায় সংসার চালানো কঠিন। ভাতা বাড়ানো উচিত ছিল।”
বর্তমানে ইমামরা মাসে প্রায় তিন হাজার টাকা এবং মোয়াজ্জেমরা দেড় হাজার টাকা করে সাম্মানিক পান। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের মতে, এই অঙ্ক বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। স্থানীয় বাসিন্দা আজিদা খাতুনের কথায়, “ইমামরা সমাজের জন্য অনেক কাজ করেন। তাঁদের ভাতা বাড়বে না কেন?” অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন ও ফজরুল হকের দাবি, অন্তত ৬-৭ হাজার টাকা মাসিক ভাতা হওয়া উচিত।
ইমাম সংগঠনের নেতার মুখে ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সিপিএম নেতা জামিনার আলীর দাবি, অন্যদের ভাতা বাড়লেও ইমামদের ক্ষেত্রে তা হয়নি, যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এই অসন্তোষের প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে।
বিজেপির জেলা নেতা পলেন ঘোষও বলেন, “সমাজের নানা অংশে বাজেট নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। তার প্রভাব ভোটে পড়বে।”
তবে বিরোধীদের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। দলের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান বলেন, “অনেকের ভাতা বাড়লেও ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিষয়টি সরকারের স্তরে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, সরকার নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনা করবে। আর ভোটে এর প্রভাব পড়বে না, কারণ ইমাম ভাতা চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।”



