অর্ক সানা(সম্পাদক, নজরবন্দি): ২৬ নির্বাচন লড়তে পরিচ্ছন্ন নেতা চাই BJP-র, অধীর আগমনের ইঙ্গিতে শঙ্কিত শুভেন্দু! কেন? ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে আসন সংখ্যা কমেছে বিজেপির। গতবার যেখানে ছিল ১৮ এইবার তা হয়েছে ১২ জন। এই সাংসদের মধ্যে ৬ জন উত্তরবঙ্গের ৬ জন দক্ষিণবঙ্গের। গতবার ১৮ জন সাংসদের মধ্যে ৪ জন কে মন্ত্রী করেছিল কেন্দ্র। এবার মন্ত্রী হয়েছেন দুজন। শান্তনু ঠাকুর আর সুকান্ত মজুমদার। যদিও পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পাননি কেউই। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। অধীর চৌধুরীর সঙ্গে কংগ্রেস হাইকমান্ডের সংঘর্ষের ফায়দা নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আর তাতেই চাপ বাড়ছে শুভেন্দু অধিকারীর উপর।
১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৯৫,৩৯১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। লোকসভা নির্বাচনে সাফল্যের পরে, তাকে মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য কংগ্রেস সভাপতি করা হয়। সেই শুরু, এরপর ২০২৪ পর্যন্ত টানা জিতে আসছিলেন অধীর ওই একই কেন্দ্র থেকে। কিন্তু এবার যেন ইন্দ্র পতন। ভিন রাজ্যের ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গেলেন বহরমপুরের টাইগার!
রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যতনা সরব হয়েছেন অধীর তাঁর ১০ শতাংশও বিজেপি বিরোধীতা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। নির্বাচন চলাকালীন একটি জনসভায় যখন মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষনা করেন, তৃণমূল INDIA জোট কে সমর্থন করবে, কিন্তু রাজ্যে অধীরের কারনে জোট হলনা তখন কংগ্রেস হাইকমান্ড সরাসরি ধমক দেয় অধীর বাবুকে। জানিয়ে দেওয়া হয়, পার্টি লাইন না মানলে বেরিয়ে যেতে হবে! সেই সময় ব্যাকফুটে থাকা অধীর কে কার্যত টোপ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সরাসরি প্রস্তাব দেন, বিভীষণের বাড়ি(কংগ্রেস) ছেড়ে রামের(বিজেপি) বাড়িতে আসার। সুকান্ত মজুমদার তাঁর হেরে যাওয়াতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, অধীর দা সম্বোধন করে।
গতকাল রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য প্রায় সরাসরি অধীর কে বিজেপিতে যোগ দানের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অধীর চৌধুরীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে কংগ্রেস। উনি সঠিক খেলোয়াড়, কিন্তু ভুল দলে রয়েছেন। কংগ্রেসে থেকে তৃণমূলের বিরোধিতা করা যাবে না। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে পারবেন না উনি, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন খড়্গে সাহেবরা।”
এদিকে, অধীরের বিজেপি যোগদানের সম্ভাবনা যত উজ্জ্বল হচ্ছে, ততটাই আশঙ্কায় দিন কাটছে শুভেন্দু অধিকারীর। কারন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরোধীতা দেখাত গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যে কুরুচিকর আক্রমণ করেন মাঝেমধ্যেই, তা বিজেপিকে ব্যাকফুটে ফেলে দেয়। তাছাড়া শুভেন্দু একদা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডেপুটি ছিলেন। তার রাজনৈতিক উত্থান মমতার হার ধরেই। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যার মধ্যে অন্যতম হল নারদা কেলেঙ্কারি এবং স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ। অধীরের বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ নেই।
২৬ নির্বাচন লড়তে পরিচ্ছন্ন নেতা চাই BJP-র, অধীর আগমনের ইঙ্গিতে শঙ্কিত শুভেন্দু

সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০১৯ নির্বাচনের সময় থেকে বিজেপির ভোট বাড়া এবং বামেদের ভট কমার মধ্যে একটা লিঙ্ক রয়েছে। তৃণমূল কে সরাতে ৮০ শতাংশ বাম সমর্থক সমর্থন করেছিল বিজেপিকে। কিন্তু ২০২১ নাগাত সেই বাম সমর্থকদের নেতা হয়ে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে শুভেন্দু যোগদানের পর একেরপর এক নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটেছে বিজেপি-র। অধীর বিজেপি-তে যোগ দিলে একজন ভাল নেতা পাওয়া যাবে বলে দাবি করছেন অনেক বিজেপি সমর্থক।
বিপদ বুঝে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। কালাকাঁদ হয়েছে মান ভঞ্জনের চাবি। যদিও মেদিনীপুর থেকে দিলীপকে সরিয়ে পূর্ব বর্ধমানে ঠেলে হারানোর অলিখিত দায় এখনই ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে পুরোপুরি পারেননি বিরোধী দলনেতা। আপাতত রাজনৈতিক চিত্র বলছে, অধীর বিজেপি-তে যোগ দিলে যার সব থেকে বেশি অসুবিধা হবে তিনি শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত, ২৬ নির্বাচন লড়তে পরিচ্ছন্ন নেতা চাই BJP-র, অধীর আগমনের ইঙ্গিতে শঙ্কিত শুভেন্দু।



