একাধিক রাজনৈতিক পর্ব পেরিয়ে অবশেষে নিজের দল ঘোষণা করলেন হুমায়ুন কবীর। সোমবার ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ আত্মপ্রকাশের মঞ্চে উঠে তিনি শুধু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই নয়, কংগ্রেসে কাটানো সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে জানান প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী-র সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার কারণ।
রাজনৈতিক মহলে পরিচিত সত্য—একসময় অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন হুমায়ুন। অনেকের মতে, অধীরের হাত ধরেই তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন বলেন, অধীর বহুবার তাঁর বাড়িতে এসেছেন, লাঞ্চ-ডিনারে অংশ নিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


কংগ্রেস অধ্যায়ের স্মৃতিচারণে উঠে আসে আরও পরিচিত নাম। হুমায়ুন জানান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় এবং তাঁর স্ত্রী মায়া রায় একসময় তাঁর বাড়িতে এসেছেন। এমনকি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়-এর সঙ্গেও ব্যক্তিগত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তবে অধীর ও কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে হুমায়ুনের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, অধীরের পরিবারের তরফে তাঁকে জাত তুলে অপমান করা হয়েছিল। হুমায়ুন বলেন, “আমি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য রাজনীতি করি। এ ধরনের অপমান মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।” সেই ঘটনার পরই তিনি কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।
নতুন দল ঘোষণার পাশাপাশি হুমায়ুন একাধিক আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছেন। নিজে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—কলকাতার বালিগঞ্জ এবং উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরে। মঞ্চ থেকে তিনি কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি-কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।


সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্য শুধু অতীতের হিসাব চুকোনোর নয়—বরং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার বার্তাও দিল।







