বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন যখন ক্রমশ জোরাল, ঠিক তখনই একের পর এক বৈঠক ও উচ্চস্বরে ঘোষণায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুয়ায়ুন কবীর। কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠক ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলেছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি জানিয়ে দিলেন, খুব শীঘ্রই সাক্ষাৎ করতে চলেছেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র সঙ্গে। সব মিলিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে নতুন অঙ্ক কষছে বাংলা।
এই আবহেই আরও এক চমক দিলেন হুয়ায়ুন। বাংলার এক প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, এবারের নির্বাচনে হেলিকপ্টারে চড়েই প্রচারে নামছেন তিনি। “আমি প্রায় দু’মাস হেলিকপ্টারে প্রচার করব। শুধু নিজের দল নয়, জোট প্রার্থীদের হয়েও প্রচারে যাব,” বলেন হুয়ায়ুন। তাঁর কথায়, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে হেলিপ্যাড তৈরি হচ্ছে এবং স্ট্যান্ড বাই হেলিকপ্টারও প্রস্তুত থাকবে।


২০১১ সালের নির্বাচনের স্মৃতি টেনে এনে রাজনৈতিক মহল মনে করাচ্ছে, সেই সময় তৃণমূলের হয়ে হেলিকপ্টার প্রচারের খরচ বহন করেছিল কংগ্রেস। তবে হুয়ায়ুনের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস কী—সে বিষয়ে মুখ খুললেন না জেইউপি প্রধান। প্রশ্ন করা হলে হেসে বলেন, “যতই খোঁচান, এখনই সেটা বলব না।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ওয়েইসির সঙ্গে খুব দ্রুত দেখা করে রাজনৈতিক আলোচনা সেরে ফেলবেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী হুয়ায়ুন কবীর। ইতিমধ্যেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি-র দলের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও সিপিএমের উপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এই বৈঠক ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠছে—এ কি নিছক আসন সমঝোতা, না কি তার চেয়েও বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা?
এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে উল্টে নিজেই এক চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ তোলেন হুয়ায়ুন। তিনি বলেন, “আমি নিজেই সেলিম সাহেবকে বলেছি, মুর্শিদাবাদে অন্তত একটা আসনে দাঁড়াতে হবে। মানুষ ভোট দেবে, সেটা আমি দেখব।” তাঁর দাবি, সেলিম এখনও রাজি হননি। হুয়ায়ুন আরও জানান, রানিনগরে তিনি ড. হুমায়ুন কবীরকে প্রার্থী করেছেন। কিন্তু সেলিম যদি সেখানে লড়তে রাজি হন, তা হলে তিনি সেই আসন ছেড়ে দেবেন।


জোট হবে কি হবে না—সে বিষয়ে নিজেও নিশ্চিত নন হুয়ায়ুন। তাঁর কথায়, সেলিম কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি, শুধু তাঁর মনোভাব বোঝার চেষ্টা করেছেন। তবু একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে হুয়ায়ুন বলেন, “যদি সঙ্গ দেয়, ভাল। যে কংগ্রেস, যে সিপিএম আজ শূন্যে, আগামী দিনে তারা শাসকদলে পরিণত হবে।”
এই প্রসঙ্গেই সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর ‘ছুতমার্গ’ মন্তব্যের কটাক্ষও করেন হুয়ায়ুন। তাঁর ব্যাখ্যা, “একজন কমিউনিস্ট বসতে আসছেন, আরেকজনের গোঁসা হচ্ছে। আমার জেলায় আরএসপি-র কোনও অস্তিত্বই নেই।” হুয়ায়ুনের দাবি, ২০২১ সালের জোট ফলপ্রসূ হয়নি বলেই এবার নতুন করে ভাবনা শুরু করেছেন সেলিম। “দলকে ঊর্ধ্বমুখী করতে হলে এক হতে হবে,” বলেন তিনি।
সবশেষে আত্মবিশ্বাসের সুরে হুয়ায়ুন জানিয়ে দেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১০০-র বেশি আসন পাবে। রাজনীতিকে তিনি ‘সম্ভাবনাময়’ বলেই দেখছেন। সেই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব হয়, তা দেখার জন্য সাংবাদিকদের তাঁর দিকেই নজর রাখার পরামর্শ দিলেন জেইউপি প্রধান।








