সোমবার রাতে সারা দেশ জুড়ে কার্যকর হয়েছে সিএএ। কেন্দ্রীয় সরকারের এই আচমকা সিদ্ধান্তে বিতর্কের ঝড় উঠেছে সারা দেশ জুড়ে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ বোলে দাবী করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হল মুসলিম পক্ষ। সিএএ- র অধীনে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও পার্সি ধর্মের লোকেরা নাগরিকত্ব পাবে।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসবাণী সত্ত্বেও ‘CAA’ কার্যকর হওয়ার একদিন পরেই সুপ্রিম কোর্টে মুসলিমরা
এর মধ্যে কেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি সেই নিয়ে তাদের বিক্ষোভ। বিরোধীদের দাবী সিএএ নিয়ে জাতিগত ভেদাভেদ আছে। সেই কারণে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলীম লীগ সিএএ কার্যকরণে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেছে। সিএএ কার্যকর হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের অনুমান এদেশ থেকে শুধু মুসলিমদের বিতাড়িত করার জন্য সিএএ চালু করা হল।

কিন্তু কী ভাবে আবেদন করতে হবে? কোন কোন তথ্য দিতে হবে? কোথায় আবেদন করতে হবে? এই সব জানিয়ে সরকার এক বিজ্ঞতির মাধ্যমে। সেখানে বলে হয়েছে, ‘সিএএ পোর্টালে’-র মাধ্যমেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে। পোর্টালটি হল indiancitizenshiponline.nic.in। আবেদনকারীকে প্রথমে এই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বেশ কিছু নথি আপলোড করতে হবে এখানে। এর পর কবে ভারতে এসেছিলেন, কেন এসেছিলেন এই সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। মোবাইল নম্বর দিতে হবে। আর তাতে একটি ওটিপি আসবে। এর পর সেই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে। সরকারিভাবে সমস্ত তথ্য যাচাই করা হবে। সমস্ত কিছু যদি সঠিক হয় তা হলেই নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। পোর্টালে কী কী নথি জমা দিতে হবে? সেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্র বা স্কুলের সার্টিফিকেট, জমির কাগজ, ভোটার কার্ড, জাতীয় পরিচয় পত্র বা রেসিডেন্সিয়াল পারমিট নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য গ্রাহ্য হবে।
CAA কার্যকর, কী ভাবে আবেদন করবেন, লাগবে কোন কোন নথি

ভারতে থাকাকালীন এখানকার স্কুল বা কলেজের সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেটও বৈধ নথি বলে গণ্য করা হবে। তবে যে নথিগুলো জমা দেওয়া হবে তা যেন বৈধ এবং নির্ভুল হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের দুটি বিশেষ নথি জমা দিতে হবে। একজন ভারতীয় নাগরিককে হলফনামার মাধ্যমে আবেদনকারীর চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে হবে। আবেদনকারীর অবশ্যই সংবিধানের অষ্টম তফসিলে তালিকাভুক্ত যে কোনও একটি ভাষার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে।



