এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের চাহিদা। কলকাতা পুরসভার তথ্য বলছে, যেখানে মাসে গড়ে ১৪০টিরও কম আবেদন জমা পড়ত, সেখানে গত দেড় মাসে আবেদন সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ হাজার। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে—জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক বা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের দেওয়া শংসাপত্রই বৈধ ধরা হবে। ফলে অনেকেরই প্রশ্ন, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পেতে কী করতে হবে? কোথায় আবেদন করতে হবে?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা আবাসিক শংসাপত্র হল এমন একটি সরকারি নথি, যা প্রমাণ করে কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। রাজ্যস্তরের বিভিন্ন পরিষেবা, শিক্ষা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই নথি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এই শংসাপত্র পেতে হলে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে নির্দিষ্ট সময় বসবাসের প্রমাণ দিতে হয়। রাজ্যভেদে এই সময়সীমা সাধারণত ৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হতে পারে।
আবেদনের জন্য কী কী লাগবে?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হলে একটি নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণ করতে হয়। তার সঙ্গে স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দিতে হয়।
প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে সাধারণত থাকে—
-
আধার কার্ড, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্র
-
জন্ম শংসাপত্র
-
স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট
-
দু’টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
-
ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যাঙ্ক পাসবই, ভাড়ার চুক্তিপত্র বা বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট বিল
কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন?
ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন করা যায় অনলাইন ও অফলাইন—দুই ভাবেই।
অনলাইন পদ্ধতি:
-
সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ই-ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটে লগ ইন করতে হবে
-
প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করে নথি আপলোড করতে হবে
-
নির্ধারিত ফি (যদি থাকে) জমা দিতে হবে
অফলাইন পদ্ধতি:
নিম্নলিখিত দপ্তরে সরাসরি গিয়ে আবেদন করা যায়—
-
তহসিলদার অফিস
-
রাজস্ব দপ্তর
-
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস
-
কালেক্টর বা ডেপুটি কালেক্টরের দপ্তর
-
নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস
আবেদনের ফি রাজ্যভেদে আলাদা হয়। সাধারণত ১৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ফি নেওয়া হয়। কিছু রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কোনও ফিও নেওয়া হয় না।



