সোনারপুর কাণ্ডের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর চিকিৎসা ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অভিযোগের জবাবে হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিষেকের শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনার পর চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার কোনও প্রয়োজন নেই।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, সমস্ত মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে মনে হয়েছে। চিকিৎসকরা বিনীতভাবে সেই বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়ে দেন। পাশাপাশি তাঁকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হলেও হাসপাতালে ভর্তি রাখার মতো কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েনি।


তবে হাসপাতাল মহলের দাবি, এই ব্যাখ্যার পরও অভিষেককে ভর্তি করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়ে দেয় যে চিকিৎসাগত কারণে ভর্তি করার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই রোগীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে হাসপাতালের একাংশের দাবি, হাসপাতাল ছাড়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলে মনে হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হাসপাতালের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, শনিবার সোনারপুরে জনরোষের মুখে পড়ার পর প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় হাসপাতালেও চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শরীরে এমন কোনও গুরুতর আঘাত নেই যার জন্য ভর্তি করে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।


এদিকে শনিবার রাতে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি ছিল, অভিষেকের বুকে আঘাত লেগেছে এবং রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কার কথা চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে ভর্তি করা উচিত ছিল বলে মত প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপের কারণেই হাসপাতালগুলি ভর্তি নিতে অনীহা দেখিয়েছে। হাসপাতালের প্রধান আধিকারিকের উদ্দেশেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে হাসপাতাল সূত্রের বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মেডিক্যাল মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা নিয়ে এখন দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে। একদিকে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ, অন্যদিকে চিকিৎসাগত প্রয়োজন না থাকার যুক্তি— এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



