কলকাতা: দীর্ঘ ১৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) ফের স্বরাষ্ট্র দফতরের (Home Department) বাজেট নিয়ে পৃথক আলোচনা হতে চলেছে। বুধবার এই বাজেট পেশ করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পর এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র বাজেট নিয়ে আলাদাভাবে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কথা বলবেন। বিধানসভা সূত্রে খবর, দিনের প্রথমার্ধে এই আলোচনা হবে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেবেন।
এক নজরে:
-
১৪ বছর পর স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে পৃথক আলোচনা
-
বুধবার বাজেট পেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
-
২০১১-পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর গিলোটিনে পাস হত এই বাজেট
-
বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পৃথক আলোচনার
-
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেবেন
বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিনের প্রথমার্ধে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পেশ ও আলোচনা হবে। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে মন্ত্রিসভার বৈঠক বসবে। অধিবেশনের দ্বিতীয় ভাগে বিদ্যুৎ দফতরের (Power Department) বাজেট নিয়েও পৃথক আলোচনা হওয়ার কথা। এই দফতরও বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকায় সেই আলোচনাতেও তিনি অংশ নেবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের আগে প্রায় প্রতি বাজেট অধিবেশনেই স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পেশ ও আলোচনা হত। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর শুধুমাত্র ২০১১ সালের পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পেশ করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনও বছরই এই দফতরের বাজেট নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হয়নি। প্রতি বছরই তা গিলোটিনের (Guillotine) মাধ্যমে পাস করা হত বলে অভিযোগ। বিরোধীরা বারবার বলেছেন, স্বরাষ্ট্র বা পুলিশ দফতরের বাজেটকে আলোচনার আওতায় না এনে গিলোটিনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন তোলা না যায়।
২০২৬-এর রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ফের বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট পৃথকভাবে আলোচনার জন্য আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি বাজেট আলোচনা নয়, বরং বিধানসভায় পুরনো সংসদীয় প্রথা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার এই বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এবার শুভেন্দু অধিকারীও করছেন। তবে এই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে কি না, সেটাই এখন দেখার।



