বিতর্কিত দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে এবার গুরুতর আইনি বিপাকে বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করল আনন্দপুর থানার পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর একাধিক ধারায় এই মামলা হয়েছে, যেখানে দোষ প্রমাণিত হলে হিরণের সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অভিযোগের কেন্দ্রে—দ্বিবিবাহ, মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার এবং অপরাধে সহায়তার মতো গুরুতর বিষয়।
বুধবার রাতেই হিরণের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৮২(১), ৮৫ ও ৫৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে।
অনিন্দিতার অভিযোগ, বিবাহিত অবস্থায় থাকতেই হিরণ চট্টোপাধ্যায় অবৈধভাবে দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হৃতিকা গিরি-র সঙ্গে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় হিরণের পাশাপাশি হৃতিকা গিরির নামেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—
-
বিবাহিত অবস্থায় অবৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক (দ্বিবিবাহ)
-
স্ত্রীর উপর দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন
-
অপরাধ সংঘটনে সহায়তা ও প্ররোচনা
কোন ধারায় কত শাস্তির সম্ভাবনা?
BNS ধারা ৮২(১) (সাবেক IPC 494):
স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় বিবাহ করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধারায় সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। এটি সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে প্রথম বিবাহ আইনত বৈধ এবং দ্বিতীয় বিবাহ বাতিলযোগ্য।
BNS ধারা ৮৫ (সাবেক IPC 498A):
স্বামী বা তাঁর আত্মীয়দের দ্বারা কোনও মহিলার উপর মানসিক বা শারীরিক নিষ্ঠুরতা চালানো হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারায় ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। এটি একটি আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ।
BNS ধারা ৫৪ (Abettor present when offence is committed):
কোনও অপরাধ সংঘটনের সময় যদি প্ররোচনাকারী বা সহায়তাকারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন, তাহলে তাঁকে মূল অপরাধীর মতোই দোষী ধরা হবে। এটি সাবেক IPC ধারা ১১৪-এর পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি ধারা একসঙ্গে প্রযোজ্য হলে অভিযুক্তের পক্ষে আইনি লড়াই অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এখনও পর্যন্ত এই মামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে এই মামলা ঘিরে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। আগামী দিনে গ্রেপ্তার বা আদালতের নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই নজর।



