আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১ জন পড়ুয়া বসতে চলেছে স্কুলজীবনের শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায়—উচ্চ মাধ্যমিক। তবে এ বছর পরীক্ষা শুধু সংখ্যার নিরিখেই নয়, নিয়ম ও কাঠামোর দিক থেকেও আলাদা। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া সেমিস্টার পদ্ধতির ফলে পরীক্ষার ধরনে এসেছে একাধিক বড় পরিবর্তন, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি।
এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে সেমিস্টার ভিত্তিতে। তৃতীয় সেমিস্টার হয়েছে এমসিকিউ বা অবজেক্টিভ প্যাটার্নে, আর চতুর্থ সেমিস্টারে পরীক্ষার্থীদের লিখিত বা বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় মূল্যায়নের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনই বদলেছে পরীক্ষাকেন্দ্র সংক্রান্ত একাধিক নিয়মও।


মাধ্যমিকের মতোই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়েও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে West Bengal Council of Higher Secondary Education। সংসদের স্পষ্ট নির্দেশ—পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনও অবস্থাতেই মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। স্মার্ট ওয়াচ, ক্যালকুলেটর বা যে কোনও ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব সামগ্রী ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি নকলের অভিযোগে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পরীক্ষার্থীদের।
পরীক্ষার সময়সূচিও মাথায় রাখা জরুরি। চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং শেষ হবে দুপুর ১২টায়। তবে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটেই। ফলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংসদের তরফে।
এবার উত্তরপত্র নিয়েও রয়েছে নতুন নিয়ম। পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত কাগজ ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই অযথা দীর্ঘ লেখা এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট উত্তর লেখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সময় বাঁচবে এবং উত্তর মূল্যায়নেও সুবিধা হবে বলে মনে করছে সংসদ।


তবে কড়াকড়ির পাশাপাশি কিছুটা স্বস্তিও রয়েছে। সংসদের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রশ্নপত্রে দ্বিগুণ প্রশ্ন থাকবে। অর্থাৎ চারটি প্রশ্নের মধ্যে থেকে যে কোনও দুটি প্রশ্ন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন পরীক্ষার্থীরা। ফলে প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে নিজের সুবিধামতো প্রশ্ন বাছাই করার সুযোগ থাকছে।
নতুন নিয়ম, নতুন ফরম্যাট—সব মিলিয়ে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা যে বেশ চ্যালেঞ্জিং, তা বলাই বাহুল্য। তবে নিয়ম মেনে, সময়ানুবর্তিতা বজায় রেখে পরীক্ষা দিলে আত্মবিশ্বাসই হবে সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।








