নজরবন্দি ব্যুরো: বিগত কয়েকদিন ধরেই কালিয়াচককাণ্ডে শোরগোল রাজ্য-রাজনীতি! নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে পৌঁছায় আইনজীবী অনিন্দ্য সুন্দর দাস। হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি নাবালিকার পরিবারকে আর্থিক সাহায্যেরও দাবি জানিয়েছিলেন আইনজীবী! কিন্তু এইবার এই মামলায় আদালতে বিচারপতির তোপের মুখে পড়লেন আইনজীবী। “ওই নাবালিকার পরিবার কি আদৌ মামলা করতে চায় কি? সেটা জানুন আগে”। এদিন আদালতে এমনটাই বলে মামলা ফেরালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
আরও পড়ুন: DA Protest: মহামিছিলের অনুমতি মিলল না, হাইকোর্টে যাচ্ছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা

সূত্রের খবর, সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে কালিয়াচক মামলার শুনানি ছিল। এদিন আদালতে মামলার শুরুতেই প্রধান বিচারপতি জানতে চান মামলাকারীর পরিচয়। এরপরেই জানানো হয় যে, যিনি মামলা করেছেন তিনি আইনজীবী। তখনই আদালতে তোপ দাগেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। আর আদালতের তোপের মুখে পোরে শেষমেশ মামলা প্রত্যাহার করে নেন মামলাকারী অনিন্দ্য সুন্দর দাস।

এদিন আদালতে আইনজীবী জানান, সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়েছে। এরপরেই বিচারপতি আইনজীবীর উদ্দেশ্যে মামলা প্রত্যাহার করে বলেন, “আগে ঘটনাস্থলে যান! এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করুন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। আদৌ কি পরিবার এই মামলা চায়? তারপর আপনি মামলা করুন। এখানে বসে বসেই মামলা করা যায় না।”
কালিয়াচককাণ্ডে আদালতে তোপের মুখে আইনজীবী, পরিবার কি আদৌ মামলা করতে চায় কি

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার কালিয়াচকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে তা দেখতে পান এলাকাবাসী। এরপরেই তদন্ত করে কালিয়াচকের ঘটনায় মালদহ থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, মূল অভিযুক্তের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে। মালদহ পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ মণ্ডল বিবাহিত। পাশাপাশি তার দুটি সন্তান আছে। যেখানে ওই নাবালিকার দেহ পাওয়া গিয়েছিল সেখান থেকে দু’ কিলোমিটার দূরে রামনগরের বাড়ি তার। এরপরেই সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ জানান, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মূল অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে, ওই নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তারপরে ওই নাবালিকার ওড়না জড়িয়েই তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে অভিযুক্ত।



