নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১১২ টি পুরভোটের ফলাফল একদিনে ঘোষণা এবং পুরভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন কি না তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার সেই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষী ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে। সেই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। অনলাইনে রায় ঘোষণা করে দেওয়া হবে। এমনটাই ঘোষণা প্রধান বিচারপতির।
আরও পড়ুনঃ খুলে দেওয়া হোক ছোটদের স্কুল, মত নোবেলজয়ী অভিজিতের
প্রধান বিচারপতি এদিন প্রশ্ন করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? কলকাতা পুর নির্বাচনের সময় কমিশনের তরফে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলা হলেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এমনকি প্রার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আপনি নিশ্চিত করছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। কিন্তু কোনও ঘতনা ঘটলে দায় কে নেবে? কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলে ভোটাররা নিশ্চিন্তে ভোট দেবেন। ওই দাবীর সমালোচনা করতে চাইছেন?
এদিন আদালতের সামনে কমিশনের আইনজীবী বলেন, বিধাননগরে ভোটের জন্য সিনিয়র আইপিএস অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ খুব কড়াভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। ২০১৬ সালের পরিস্থিতি এখন আর নেই। ইতিমধ্যেই পুলিশ রুটমার্চ করতে শুরু করেছে। প্রতিটি বুথে সশস্ত্র পুলিশ থাকবে। কমিশনের দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ ভোট করানো। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে দায় নেবে কমিশন।
প্রধান বিচারপতির তরফে বলা হয়, একদিকে বলছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের একদিকে সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। আবার শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর কথাও বলছেন। একসঙ্গে গণনা কেন কমিশন করাতে চাইছে না? প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তুলে ধরেন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গও।

পাল্টা কমিশনের আইনজীবী বলেন, একসঙ্গে করাতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সিসিটিভির সমস্ত অভিযোগ সত্য নয়। কিছুক্ষেত্রে কম্পিউটার কাজ করছিল না বলে সিসিটিভির সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
তবে মামলাকারীর আইনজীবীর কথায়, বিধাননগরে প্রচুর বোমাবাজি এবং ভাঙচুর হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সেই জন্য আমরা সওয়াল করছি। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ২০১৬ সালে ভোট হয়েছিল। এবারেও ভোট করাতে চেয়েছি। রাজ্য পুলিশের দ্বারা শান্তিপূর্ণ ভোট করানো সম্ভব নয়। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবী তুলছেন তাঁরা।
পুরভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, ২৪ ঘন্টা আগে জানালেই হবে ব্যবস্থা

এদিন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওয়াই জে দস্তুর জানিয়েছেন, এই মামলায় আমাদের পক্ষ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন হলে ২৪ ঘন্টা আগে জানাতে হবে। তাহলেই ব্যবস্থা করা যাবে। মামলাকারীর আইনজীবী শ্রীজিব চক্রবর্তী বলেন, একটি বুথে একজন সশস্ত্র পুলিশ এবং আবকি লাঠিদারী। কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছিল। সেখানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন থাকার দরকার।



