দীর্ঘ আট বছর পর অবশেষে বুধবার উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ-জট কাটল। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি)-কে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল। ফলে, খুব দ্রুত উচ্চ প্রাথমিকে চাকরি পেতে চলেছেন ১৪ হাজার ৫২ জন।
২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৩৯ টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল রাজ্য সরকার। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মেধাতালিকায় ছিল ১৪ হাজার ৫২ জনের নাম। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। আদালতের নির্দেশে বারবার এই প্রক্রিয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গিয়েছে।
এরপর ২০২০ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল করেছিল উচ্চ আদালত। ২০২৩ সালে নতুন করে প্যানেল প্রকাশ করার অনুমতি দেয় হাই কোর্ট। পরবর্তী ক্ষেত্রে মামলাটি যায় ডিভিশন বেঞ্চে। ২০২৩ সালে অনুমানের ভিত্তিতে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া থেকে ১৪৬৩ জনকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চারবার তা খতিয়ে দেখে এসএসসি। শেষে ইন্টারভিউ থেকে বাদ পড়েন কেবল ৭৪ জন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পর্কে অভিযোগ ছিল, উচ্চ প্রাথমিকে সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি। কাউন্সেলিং-এর সময় তপশিলি জাতি এবং জনজাতিদের সংরক্ষণ নিয়েও ছিল ধোঁয়াশা। এমনকি মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে ত্রুটি ছিল বলে আদালতে অভিযোগ জানান মামলাকারীরা। অবশেষে দীর্ঘ আট বছরের ঝুলে থাকার পর উচ্চ প্রাথমিকের ওই ১৪ হাজার ৫২ জনের নতুন মেধা তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিল হাই কোর্ট।



