রাস্তায় অটো টোটোর দৌড়াত্বে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এবার সেই দৌড়াত্ব কম করতেই কড়াকড়ি পথে হাঁটল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পরিবহন দফতরকে এই যান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। এছাড়াও জাতীয় সড়কের উপর এই অটো, টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, শুক্রবার এমনটাই জানাল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ।
মূলত একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে এই রায় আদালতের। নদিয়ার রানাঘাটের একটি ঘটনাকে ঘিরেই আদালতে এই মামলা ওঠে। অভিযোগ, রানাঘাটের এসবিআই মোড় থেকে পায়রাডাঙা অবধি রাস্তায় অসংখ্যা অটো চলাচলের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। যে কারণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সেখানকার পথচলতি সাধারণ মানুষ। সেই যানজট মুক্ত হতে দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যায়। এ অবস্থায় বাজারের ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে বা স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে যানজট মুক্তের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে সাধারণ মানুষ থেকে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের। ফলে সময়ে পৌঁছনো যায় না গন্তব্যে। এমনকি ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় ওই সমস্ত অটো বা টোটো তে থাকা যাত্রীদের।
এখানেই শেষ নয়! অভিযোগ, এতকিছুর পরেও ফের ওই রাস্তায় নতুন অটো চলার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে এই সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে খবর স্থানীয় সূত্রে। এই সমস্যার কথা উল্লেখ্য করে বেশ কয়েকজন অটো চালক কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেই রায় দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি এদিন এই মামলার শুনানিতে অবৈধ যান ধরার জন্য হঠাৎ পরিদর্শনের পরামর্শও দিয়েছে উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে ওই সকল যান অবৈধ হলে তা সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে তার জন্য পরিবহন দফতরকে বিশেষ টিম তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই টোটো, অটোর সমস্যা শুধু রানাঘাট বা নদিয়াতেই নয় সারা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দিকে যদি নজর দেওয়া যায় তাহলে দেখা যাবে সেখানে অটোর থেকে এই ব্যাটারি চালিত টোটোর দৌড়াত্বই বেশি। একই ভাবে এই যানজট জনিত সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। উল্লেখ্য, অনেক আগেই এই সমস্যার কারণে পরিবহণ দফতরের তরফ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, নতুন অটো অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই রুটের অবস্থা আগে খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়াও অবৈধ টোটো চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেই নিয়ন্ত্রণ আনা যায়নি এই যান চলাচলে।



