প্রথা ভেঙে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন হেমন্তই, আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত শিলমোহর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রথা ভেঙে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন হেমন্তই, আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত শিলমোহর।আসামে ভোটের ফলফল বেরনো ৭ দিন পর অবশেষে ঠিক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নাম। তেমনই শোনা যাচ্ছে বিজেপির অন্দরমহল। আর চমক দিয়ে নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন হেমন্ত বিশ্বশর্মা। ভোটে জিতেও বিদায় নিতে হচ্ছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। দুই হেভিওয়েট নেতার কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন সেই নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল প্রথম থেকেই।

আরও পড়ুনঃ ফের করোনা যুদ্ধে রেল, ৭ রাজ্যে তৈরি ট্রেনের কামরাতেই করা হল আইসোলেশন কোচ।

আগেই এই পদে সর্বানন্দ থাকায় তিনিই ফের চেয়ারে বসার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে মনে করছিল অনেকেই। সমস্যা মেটাতে দুজনকেই কাল দিল্লীতে তলব করা হয়। সূত্রের খবর গতকাল অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার সাথে এই দুই হেভিওয়েট মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ম্যারাথন বৈঠক হয়। সেখানেই সোনওয়ালকে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ব্যাপারে রাজি করিয়ে ফেলেন নাড্ডা-শাহরা। সেই মত আজ রবিবার গুয়াহাটির লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক। সেখানে পূর্ব নির্ধারিত মতই বিজেপির বিধায়করা হেমন্তের মুখ্যমন্ত্রী হওয়াকে সমর্থন জানাবেন বলেই সূত্রের খবর। গতকাল দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরেই ঠিক হয় সোনওয়াল নয় মুখ্যমন্ত্রী হবেন হেমন্তই।

তবে আসামে কঠিন লড়াইয়ে বিজেপিকে বৈতরণী পার করানো সর্বানন্দকে  কেন্দ্রে কোনও পদ দিতে পারে বিজেপি বলেই সূত্রের খবর। তবে কোন পদ তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে ভোটে জিতেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে পুনরায় পদে না বসানোয় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। তবে অতীতে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিমন্ত কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিলেও ভাবমূর্তি এতটুকুও টোল খায়নি। বরং করোনার সময়ে অসমবাসী যে ভাবে তাঁকে পাশে পেয়েছে তাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতার জেরে গোটা উত্তর পূর্ব ভারতেই ক্ষমতা বেড়েছে বিজেপির। ফলে অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদির গুডবুকে রয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

প্রথা ভেঙে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন হেমন্তই, আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত শিলমোহর। বিজেপিকে গোটা উত্তরপূর্ব ভারত একজোট করার অন্যতম কারিগরও তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যেই শিকে ছিঁড়ল বলেই মনে করছে বিশেসজ্ঞ মহল। তবে হেমন্ত ও সরবানন্দ দুই নেতার মধ্যে বরাবরের ঠাণ্ডা লড়াই এই সিদ্ধান্তের পর কোনদিকে বাঁক নেয় সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত