হাসিনার দেশত্যাগের দিনেই খালেদা জিয়ার জেলমুক্তি, আবার মৌলবাদের দখলে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশে সরকার পতন। দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপাতত সেনার শাসনে বাংলাদেশ। পড়ুয়ারা যদিও চাইছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হোক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাঁচ, আট, চব্বিশ! বাংলাদেশের ইতিহাসে আবারও একটা উল্লেখযোগ্য দিন। ছাত্র আন্দোলনের জেরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছেন। আশ্রয় নিয়েছেন ভারতে। আর হাসিনার দেশত্যাগের দিনেই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ শাহাবুদ্দিন। আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। পুলিশ ও পড়ুয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ৩০০-এর অধিক মানুষের। সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট কোটা সংস্কারের পক্ষেই রায় দেয়। এর পর আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় আন্দোলন। দাবি, শেখ হাসিনার অপসারণ। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সরকারের নানা অগণতান্ত্রিক এবং একনায়কোচিত পদ্ধতি নিয়ে জমতে থাকা মানুষের রাগ ফেটে বেরিয়ে এই আন্দোলনকে এক বৃহৎ চেহারা দেয়।

দ্বিতীয় দফার আন্দোলনেও মৃত্যু হয় ১৩৫ জম্ন মানুষের। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। ১৫ বছরের আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। সোমবার বাংলাদেশের গণভবন আক্রমণ করে আন্দোলনকারীরা। সমস্ত জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় ভেঙে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধু মজিবুর রহমানের মূর্তি। এরপর থেকেই অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলন আসলে ‘অন্যরূপ’ নিয়েছে। ছাত্রদের সামনে রেখে আসলে সুবিধা নিতে চাইছেন কিছু ক্ষমতালোভী মানুষ। সোমবার রাতে দেশের নানান প্রান্তে ভাঙা হয় মন্দির। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা দেশে।

অভিযোগ, ছাত্রদের সামনে রেখে ফায়দা তুলতে চাইছে বিরোধী বিএনপি গোষ্ঠী। জেল থেকে মুক্তি পেয়েছে জামাত গোষ্ঠীর একাধিক নেতা। এখন, আশঙ্কা, আবার কি মৌলবাদীদের দখলে চলে যাবে বাংলাদেশ? অনেকে আবার মনে করছেন, শেখ হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধেই এই গণঅভ্যুত্থান। কিন্তু, যেভাবে আন্দোলন পরবর্তী অবস্থায় একটা অরাজকতা তৈরি হয়েছে সেখানে আগামী দিনে বাংলাদেশে কারা ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।

তবে, মঙ্গলবার থেকে সে দেশে খুলেছে স্কুল কলেজ। সকাল ৬টায় প্রত্যাহার করা হয়েছে কার্ফু। বাংলাদেশের অন্তত ৯ জন মন্ত্রী এবং অন্তত ২৭ জন সাংসদের বাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে একদিনে। এখন, খালেদা জিয়াই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? সংখ্যালঘুরা কি সে দেশে নিরাপত্তা পাবেন? প্রশ্ন অনেক। তবে, এখন সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হল, শান্তি। সেই শান্তির অপেক্ষাতেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর