বিজেপিশাসিত গুজরাটে রাজনৈতিক নাটকীয়তা চরমে। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ছাড়া বাকি সমস্ত মন্ত্রী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। বুধবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সব মন্ত্রীরা, যা তিনি ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন। ফলে এখন কার্যত পুরো মন্ত্রিসভা খালি। শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রয়েছেন পদে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এমন সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন বিজেপির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে।
মন্ত্রিসভা রদবদল ও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণের কারণেই মন্ত্রীদের গণপদত্যাগ। বর্তমানে রাজ্যে মন্ত্রীর সংখ্যা ১৬, যা বেড়ে ২৬ করা হবে বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ দশ জন নতুন মুখ আসছেন মোদি-শাহের রাজ্যে।
বিজেপির একাংশ মনে করছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক গতি ফেরানো ও তরুণ নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পরিবর্তন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হবে প্রবীণ ও নবীন—দুই প্রজন্মের নেতাদের সমন্বয়ে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান গান্ধীনগরে
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার সকাল সাড়ে এগারোটায় গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দিরে হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলও আজ রাতেই রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত-র কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে খবর সূত্রে। যদি তা হয়, তবে পুরো গুজরাট মন্ত্রিসভা ভেঙে যাবে আনুষ্ঠানিকভাবে।
নতুন মুখ, নতুন সমীকরণ
দলীয় সূত্রে খবর, এবার মন্ত্রিসভায় থাকবে সকল সম্প্রদায় ও বর্ণের ভারসাম্য। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে, নতুন মন্ত্রিসভা হোক সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রতিফলন। ফলে নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে তরুণ মুখের পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতারাও জায়গা পাবেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজেপি আসন্ন ২০২7 গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন এবং 2029 লোকসভা নির্বাচন—দুইয়ের জন্যই প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েও জল্পনা
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ভূপেন্দ্র প্যাটেল কি থাকছেন? নাকি নতুন মুখ্যমন্ত্রী আনতে চলেছে বিজেপি? এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে কিছু সূত্র বলছে, দিল্লি নেতৃত্ব বিকল্প মুখ নিয়ে আলোচনা করছে।
তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানাচ্ছে, এটি কেবল রুটিন মন্ত্রিসভা রদবদল, মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা নেই। আগামীকালই সব স্পষ্ট হবে।
গুজরাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন মুহূর্ত
এমন গণপদত্যাগ গুজরাটের ইতিহাসে বিরল। ২০২১ সালেও অনুরূপভাবে পুরো মন্ত্রিসভা ভেঙে নতুন করে গঠন করা হয়েছিল। এবারও তেমন এক রাজনৈতিক রিসেট ঘটতে চলেছে।
দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গুজরাটে যা ঘটছে, তা বিজেপির ‘গভর্নেন্স রিফ্রেশ মডেল’—যেখানে নেতৃত্ব নিয়মিত পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনের গতি বজায় রাখতে চায়।



