গুজরাত ATS (Anti-Terrorism Squad) সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য পেয়েছে। শনিবার রাতেই আটক করা হয়েছে ৩ জন আইসিস (ISIS) জঙ্গিকে, যারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক বিস্ফোরণ ও নাশকতা পরিকল্পনা করছিল বলে ATS সূত্রে খবর।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হলেন ডঃ আহমেদ মহিউদ্দিন সইদ, মহম্মদ সুহেল, এবং আজাদ সুলেমান সাইফি। তাঁরা গুজরাতের আদালাজ টোল প্লাজার কাছে অস্ত্র পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি গ্লোক পিস্তল, একটি বেরেটা পিস্তল এবং ৩০ রাউন্ড গুলি।
গুজরাত ATS ডিআইজি সুনীল জোশী জানিয়েছেন, “এই তিনজনের উপর প্রায় এক বছর ধরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। তাদের কার্যকলাপ থেকে স্পষ্ট ছিল, তারা দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল।”
ডঃ আহমেদের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা: রাইসিন বিষ তৈরির ছক
ATS সূত্রে খবর, চিনে এমবিবিএস ডিগ্রি প্রাপ্ত ডঃ আহমেদ বিশেষভাবে বিপজ্জনক ছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল রাইসিন (Ricin) নামক এক মারাত্মক বিষ তৈরি করা, যা স্বল্পমাত্রায় প্রাণঘাতী। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪ লিটার ক্যাস্টর তেল—রাইসিন তৈরির মূল উপাদান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর যোগাযোগ ছিল হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ ও কাশ্মীরের কিছু সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের সঙ্গে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আহমেদ দেশজুড়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।
উত্তরপ্রদেশ সংযোগ ও আন্তর্জাতিক যোগের খোঁজ
আটক অন্য দুই অভিযুক্ত, আজাদ সুলেমান ও মহম্মদ সালিম খান, দুজনেই উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর ও শামলি জেলার বাসিন্দা। তাঁদের তিনজনের নামই কাশ্মীরের কিছু সন্দেহজনক মডিউলে পাওয়া গিয়েছিল। এখন ATS খতিয়ে দেখছে, এই দলের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ISIS সেল যুক্ত আছে কি না।
সূত্রের খবর, তিনজনের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত রিমান্ডে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি দুইজনকেও আদালতে তোলা হবে আগামী সপ্তাহে।
সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, সতর্ক গোয়েন্দা মহল
ATS এই অভিযানকে “India-wide Terror Plot Foiled” বলে উল্লেখ করেছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, সময়মতো অভিযান না চালালে দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটতে পারত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিসের নতুন মডিউল দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ATS-এর দ্রুত পদক্ষেপে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন গোয়েন্দারা নজর রাখছেন, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ভারতের বাইরে কারা যুক্ত।
গুজরাত ATS-এর এই অভিযান শুধু রাজ্যের নয়, দেশের নিরাপত্তার জন্যও এক বড় পদক্ষেপ। এক বছরের সূক্ষ্ম তদন্তে যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের জেরা থেকে ভবিষ্যতে আরও বড় সন্ত্রাস চক্রের হদিস মিলতে পারে। তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।







