নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশজুড়ে। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল এই তৃতীয় করোনার প্রকোপ বড়দের পাশাপাশি বাচ্চাদের ওপরেও পড়ছে। করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক (Mask) পরা সবচেয়ে জরুরি। কিন্তু বাচ্চাদেরও কি মাস্ক পরা দরকার? না কি মাস্ক পরে থাকলে তাদের শরীরে অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে?
আরও পড়ুনঃ কোভিডের বাড়বাড়ন্ত বহুতল আবাসনে কেন? চাঞ্চল্যকর তথ্য পুরসভার কাছে


বাচ্চাদের নিয়ে কোভিড নির্দেশিকায় (Covid Guidelines) এমনটাই জানালেন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের স্বাস্থ্য পরিষেবা ডিরেক্টর জেনারেল (DGHS)। কোভিডের তৃতীয় ওয়েভে বাচ্চাদের সুরক্ষিত রাখতে আগে থেকেই তৎপর স্বাস্থ্যমন্ত্রক (Health Ministry)। এছাড়াও একাধিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

সেন্টার ফল ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুযায়ী সন্তানের বয়স দু বছরের বেশি হলেই পাবলিক প্লেসে তাকে মাস্ক পরাতেই হবে। অ্যামেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস বলছে যে সব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল, সেখানে বিশেষ ভাবে বাচ্চাদের মাস্ক পরে থাকতে হবে। তবে এটা ঠিক যে বাচ্চাদের মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা বোঝানো সত্যিই কঠিন।



যদিও ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী বাচ্চাদের মাস্ক পরতে হবে তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনুযায়ী। ১২ বছরের উর্ধ্বে বাচ্চাদের জন্য ওয়াক টেস্ট (Walk Test) এর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। হাইপোক্সিয়া দূর করতে ও হৃদযন্ত্র ঠিকঠাক চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতেই এই সহজ ক্লিনিক্যাল টেস্টের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আঙুলে অক্সিমিটার লাগিয়ে ঘরে ৬ মিনিট হাঁটতে হবে এই পরীক্ষার জন্য।

বাচ্চাকে মাস্ক পরানো নিয়ে জোর করবেন না। ওকে বুঝিয়ে বলুন, পছন্দের মাস্ক থেকে বেছে নিতে দিন ওকেই। বাচ্চাদের জন্য নানা আকর্ষণীয় রঙের বা তাদের পছন্দের চরিত্র আঁকা মাস্ক বেছে নিতে পারেন। তবে সেই মাস্ক যথেষ্ট সুরক্ষা দিচ্ছে কিনা, সেটা দেখে নেওয়া জরুরি। এভাবেই ধীরে ধীরে ওর মাস্কের প্রতি আগ্রহ গড়ে উঠবে। তবে বাচ্চার বয়স দু-বছরের কম হলে তখন মাস্ক পরানোর দরকার নেই।
Mask নিয়ে বাচ্চাদের জন্য Guidelines কেন্দ্রের, কি আছে এই নির্দেশিকায়?

কোভিডে বাচ্চাদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের অ্যান্টিমাইক্রোবায়ালস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য রেমডেসিভইর প্রয়োগে আপাতত নিষেধ করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কোভিডে স্টেরয়েড ব্যবহারেও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ব্যবহার ক্ষতিকারক। যদিও জরুরি অবস্থায় সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








