জিএসটি ৩.০ (GST 3.0)–এর পথে হাঁটছে ভারত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, জিএসটির সূচনা হয়েছিল ২০১৭ সালে এক দেশ-এক কর নীতি নিয়ে। এরপর এসেছে জিএসটি ২.০, আর তারই ধারাবাহিকতায় আসতে চলেছে পরবর্তী সংস্করণ, অর্থাৎ জিএসটি ৩.০।
২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে জিএসটি ২.০ (GST 2.0)। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য একাধিক বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। করছাড়ের সুযোগ বৃদ্ধি, মধ্যবিত্তের স্বস্তি এবং দামী পণ্যে বাড়তি ট্যাক্স—সবকিছু মিলিয়েই নতুন কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। সরকারের লক্ষ্য, জিএসটি ৩.০–কে আরও সহজ ও কার্যকর করে অর্থনীতিকে নতুন স্থিতি দেওয়া।


জিএসটি ৩.০–এর গুরুত্ব
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, জিএসটি শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের অর্থনীতির কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তন এসেছে। এক ছাতার তলায় গোটা দেশের কর ব্যবস্থাকে আনা সম্ভব হয়েছে। এবার জিএসটি ৩.০ এমনভাবে তৈরি হবে যাতে ছোট ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা আরও বেশি সুবিধা পান। সরকারের মতে, এই সংস্করণ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি আক্রমণ
অর্থমন্ত্রী সীতারমন কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “যারা একসময় জিএসটিকে গব্বর সিং ট্যাক্স বলত, তারাই এখন এর কৃতিত্ব চাইছে।” উল্লেখ্য, কংগ্রেস শুরুতে জিএসটির বিরোধিতা করলেও এখন তারা দাবি করছে, সরকারের ৮ বছর দেরিতে হলেও কর কাঠামোকে সরলীকরণ করতে হয়েছে বিরোধীদের চাপে।
কংগ্রেস নেতা পি. চিদম্বরম অভিযোগ করেন, এতদিন বিরোধীদের অনুরোধে কান দেয়নি সরকার। এখন রাহুল গান্ধীর ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে বাধ্য হয়ে জিএসটি ২.০ আনা হয়েছে। দলের দাবি, তাঁদের প্রস্তাবিত জিএসটি আসলে ছিল “Genuine Simple Tax”, আর বিজেপির সংস্করণকে তারা বলেছিল “Gabbar Singh Tax”।


সরকারের পাল্টা সওয়াল
অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন জিএসটি কার্যকর করেনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তই দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দিয়েছে।
ভবিষ্যতের দিশা
জিএসটি ৩.০ আসলে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, যা বাজারকে আরও সহজ করবে এবং দেশের সর্বত্র একইভাবে কর ব্যবস্থাকে কার্যকর করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, GST 3.0 চালুর পর অর্থনীতিতে স্থিরতা আসবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেরই লাভ হবে।







