রাজ্যের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। রাজ্যপালের ভাষণে আরজি কর হাসপাতালের প্রসঙ্গ বাদ যাওয়ায় বিজেপি বিধায়কদের তীব্র বিক্ষোভ। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এর নাম বদলে ‘জলস্বপ্ন’ করার অভিযোগে সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভাষণ চলাকালীনই বিজেপির মহিলা বিধায়কেরা বিক্ষোভ দেখান। (আরও পড়ুন- টিকিট বাছাই থেকে ব্লক সভাপতি- সব সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা, বুঝিয়ে দিলেন শেষ কথা তিনিই)
বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণ ও বিতর্কের সূত্রপাত: সোমবার থেকে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার রাজ্যপালের জন্য একটি ভাষণ প্রস্তুত করে এবং তিনি সেটিই পাঠ করেন। এবছর রাজ্য সরকার ১১ পাতার বক্তৃতা পাঠিয়েছিল রাজভবনে, যা সোমবার বাংলায় পড়েন রাজ্যপাল বোস।


📌 তবে ভাষণে ছিল না আরজি কর হাসপাতালের উল্লেখ, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি বিধায়করা।
📌 এছাড়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ এনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।
📌 তিনি দাবি করেন, ‘জল জীবন মিশন’-এর প্রকল্পকে রাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ‘জলস্বপ্ন’ নামে উল্লেখ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেটিং? রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিজেপির বিক্ষোভে উত্তাল বিধানসভা

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি: কেন্দ্রকে অভিযোগ জানাবেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার অভিযোগ তুলে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।
🔹 তিনি জানান, এর আগেও রাজ্য সরকার এই একই কাজ করেছিল এবং তখন ভুল স্বীকার করেছিল।
🔹 কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রককে এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে।
🔹 শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিলকে ইতিমধ্যেই তিনি ইমেল করেছেন।
🔹 কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করারও সুপারিশ করেছেন তিনি।


রাজ্যপালের ভাষণে আরজি কর হাসপাতালের নাম না থাকায় বিধানসভায় বিজেপির প্রতিবাদ: রাজ্যপালের ভাষণে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ‘আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ’-এর নাম অনুপস্থিত থাকায় ক্ষুব্ধ হন বিজেপি বিধায়কেরা। রাজ্যপাল যখন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বিজেপির মহিলা বিধায়কেরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে অংশ নেন অগ্নিমিত্রা পাল, শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী, চন্দনা বাউড়ি, তাপসী মণ্ডল এবং সুমিতা সিংহ। তাঁদের অভিযোগ, কেন রাজ্যপালের ভাষণে আরজি কর হাসপাতালের প্রসঙ্গ এল না?
রাজভবনের প্রতিক্রিয়া: বিতর্ক এড়ালেন রাজ্যপাল। বিরোধীদের দাবি ছিল, রাজ্য সরকার রাজ্যপালকে কেন্দ্রবিরোধী ভাষণ পাঠানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল। শুভেন্দুর অভিযোগ, প্রথমে রাজ্যপাল সেই ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পরে কিছু সংশোধন করা হলে তিনি তা পড়তে রাজি হন।
📌 তবে রাজভবন থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
📌 রাজভবনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিতর্কিত বিষয়ে তাঁরা প্রতিক্রিয়া দেবেন না।
📌 তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার যে ভাষণ পাঠিয়েছে, রাজ্যপাল সেটাই পাঠ করেছেন।
ভাষণের মূল বক্তব্য: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা। রাজ্য সরকারের পাঠানো ভাষণে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র কোনো আক্রমণ না থাকলেও, কেন্দ্রীয় তহবিল না পাওয়ার অভিযোগ ছিল।
📌 ভাষণে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না।
📌 বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
📌 তবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়নি।
বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজ্যপালের ভাষণে আরজি কর হাসপাতালের নাম অনুপস্থিত থাকায় বিজেপি বিধায়কেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলের অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার কী ব্যবস্থা নেয়।







