নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। গতকালই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপরই শুরু হয় জল্পনা। সেই মধ্যরাতেই বড় পদক্ষেপ তাঁর। ঘড়ির কাটা ১২-র ঘর ছোঁয়ার আগেই জোড়া চিঠি গেল নবান্নে ও দিল্লিতে। কিন্তু দিল্লিতে কাকে চিঠি পাঠানো হল, কী লেখা সেখানে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: আবহাওয়ার ভেলকি! এখনই বৃষ্টি থেকে রেহাই নেই দক্ষিণবঙ্গে, বাড়বে তাপমাত্রাও


সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নিশানায় বারবার উঠে আসছেন রাজ্যপাল। এই বিতর্কের সূত্রপাত গত শুক্রবার। বৈঠকের জন্য রাজ্য চালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির রেজিস্ট্রারদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেখা যায় হাতে গুনে মাত্র ১২ জন রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ রাজ্যপাল অনুমোদন না দেওয়ায় আসতে পারেননি তাঁরা। এমনকি সিভি আনন্দ বোসকে মহম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এর জবাবে শনিবার রাজ্যপাল কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ মধ্যরাতে কী করি দেখুন।”

মধ্যরাতে রাজ্যপাল কী পদক্ষেপ করবেন, তা নিয়ে দিনভর জল্পনা চলে। এদিন বিকেলেই রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদিকে তলব করা হয় রাজভবনে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে দুজনের মধ্যে বৈঠক হয়। যদিও তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়, তা স্পষ্ট হয়নি। এরপর রাত বারোটা বাজার আগেই রাজভবনের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লিতে দুটি চিঠি পাঠানো হয়।



সিভি আনন্দ বোস বাংলার রাজ্যপাল হয়ে আসার পর তাঁর সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিল। তাঁকে বাংলা শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। কিন্তু ক্রমেই তলানিতে ঠেকে সেই সুসম্পর্ক। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকেই সংঘাত বাড়তে শুরু করে। এরপর উচ্চশিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্যের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। ব্রাত্য বসু নাম না করেই রাজ্যপালকে কখনও গোপাল ভাঁড়, কখনও রক্তচোষা বলে কটাক্ষ করেছেন।
মধ্যরাতে মুখবন্ধ খামে জোড়া চিঠি মুখ্যমন্ত্রী ও দিল্লিকে! কী ইঙ্গিত রাজভবনের?









