নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০১৯ -এ ডিসেম্বরের শেষে শুরু হয়েছিলো করোনা অতিমারি, যার রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছেনা বঙ্গবাসী। এবছর দুর্গাপুজোর আগে পর্যন্ত কলকাতার মানুষজনদের মাস্ক পরতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে আর প্রায় কারও মুখেই দেখা যায়নি মাস্ক। বেশ কিছুদিন যেতেই ফের চোখ রাঙাতে শুরু করেছে করোনা ভাইরাস। ২০২২-এর ডিসেম্বর মাস মানেই কলকাতায় উৎসবের মরশুম, আর তার মধ্যেই চিনে শুরু হয়েছিলো কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়বাড়ন্ত। আর তাতেই আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব।
আরও পড়ুনঃ তৃতীয় ও চতুর্থ দফার ইন্টাভিউয়ের দিন ঘোষণা করল পর্ষদ, নতুন বছরে বিরাট ভাবনা সরকারের


জানা গিয়েছে, এবার করোনা ভাইরাসে যে নতুন উপ-প্রজাতিটি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে সেটি ওমিক্রনের বিএফ ৭। হঠাৎ করে এমন ভাবে সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের কারণ কি? বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন চিনে দীর্ঘদিন ‘জিরো কোভিড’ নীতি জারি থাকার ফলে সংক্রমণের হার কম ছিল। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা একেবারে তুলে নেওয়ায় আবারও হু-হু করে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। সে ক্ষেত্রে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তত্ত্বের কথাই বলছেন অনেকে।

এই অবস্থায় ভারতে এখনও পর্যন্ত এই উপ-প্রজাতির করোনাভাইরাস আক্রান্ত চারজনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে। ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখার আগেই সাবধান হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যগুলির জন্য মাস্ক পরার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঙ্গে নাগরিকদেরও কোভিড আচরণ বিধি মেনে চলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও ভারতীয়দের মধ্যে এখনও বেশ গা ছাড়া মনোভাব দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন ওমিক্রনের বিএফ ৭ উপ-প্রজাতি তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। কিন্তু সত্যিই কি তাই! না কি আবারও একটি করোনা ঢেউ আছড়ে পড়তে চলেছে নতুন বছরে! তবে জানা যাচ্ছে, এই উপ-প্রজাতির করোনা ভাইরাসটি বেশ যথেষ্ট প্রভাবশালী। শুধু চিন নয়, ইউরোপের একাধিক দেশ, আমেরিকাতেও তার প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে উদ্বেগজনক বলে দাবি করেছে ইতিমধ্যেই।


এখন সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ। তবে বেশির ভাগ চিকিৎসকই মনে করছেন টিকা এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই। তার ফলে গুরুতর রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে হয়তো। তাতে সংক্রামিতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি নাও হতে পারে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া রিপোর্টগুলি থেকেও জানা যাচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বা গুরুতর রোগের নিদর্শন কম।

এই ভাইরাস দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে। এর মধ্যে কোনও রূপ বিপজ্জনক হয়ে উঠতেই পারে। তাই কোনও ভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। মাস্ক বা অন্য নিরপত্তা মূলক ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা দাবি করছেন এই পরিস্থিতিতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সীমিত রাখা প্রয়োজন। বেশি ভিড়ের মধ্যে না যাওয়াই ভাল। সেই সঙ্গে বুস্টার ডোজও নেওয়া দরকার। এটি সংক্রমণের তীব্রতা এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি রোধ করতে পারে।
এ দিকে ভারতের আবহাওয়া এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যাতে সর্দি-গর্মির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বহু মানুষই এই সর্দি-জ্বর, হাঁচি-কাশির সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় প্রতি ঘরেই অসুখ। কিন্তু ঘটনা হল নতুন ওমিক্রন উপ-প্রজাতি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও একই রকম উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। লক্ষণ প্রায়ই ঠান্ডা লাগা, ফ্লু এবং অন্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের সঙ্গে তা গুলিয়ে যেতে পারে।
নতুন বছর শুরুতেই লকডাউনের সিন্ধান্ত! বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে চিন্তাভাবনা সরকারের

নতুন প্রজাতির করোনা সংক্রমিতের মধ্যে গলা ব্যথা, জ্বর, সর্দি, কাশি, ক্লান্তি, গা হাত পায়ে ব্যাথা, মাথা ব্যথা, শ্বাস কষ্টের মতো সমস্যা দেখা যেতে পারে। এমন অসুস্থতা থাকলেও খানিকটা নিরালায় থাকা দরকার। কারণ রোগ ছড়িয়ে পড়লে সুস্থ মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা তা লড়ে নিতে পারতে পারে। কিন্তু কো-মর্বিডিটি যুক্ত মানুষ, বয়স্করা খুব সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়বেন। তাঁদের বিপদও বেশি।







