নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঘুমপ্রেমীদের জন্যে সুখবর, ঘুমকাতুরে বলে দুর্নাম কিনেছেন? একটা মনের মতো নরম বিছানা পেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আয়েশ করে ঘুমোতে পারেন! বিশেষজ্ঞদের মতে অবশ্য ঘুম জিনিসটা বেশ উপকারী। কিন্তু ঘুম থেকে উপার্জন? মনের মতন চাকরির সুযোগ পেলে কার না ভালো লাগে! হ্যাঁ, সেটাও অসম্ভব নয়। এখন স্রেফ ঘুমিয়েই আপনি রোজগার করতে পারেন মাস গেলে লক্ষাধিক টাকা।
আরও পড়ুনঃ ৫৭৭ দিনের ধর্নামঞ্চে চাকরির হাহাকার, দ্রুত নিয়োগ চায় হবু শিক্ষকরা
সম্প্রতি কর্মপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে এমনই এক অভিনব প্রস্তাব রেখেছে জাপানের এক ম্যাট্রেস কোম্পানি। কিছুদিন আগেই নিজেদের সোশ্যাল সাইটে বেশ ঘটা করে কর্মখালির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তাঁরা। এই পোস্টে আবেদনের জন্য যোগ্যতা একটাই- ঘুম। সারা দিনে নিদেনপক্ষে ১০ ঘণ্টা ঘুমোতে পারবেন এমন ‘কুম্ভকর্ণ’ প্রার্থী চেয়েই অ্যাড দিয়েছেন জাপানের ওই বিশেষ বেডিং কোম্পানি। এই বিশেষ পদের পোশাকি নাম ‘প্রফেশনাল ন্যাপার’।

সিএনবিসি নামক এই কোম্পানি মূলত ম্যাট্রেস ম্যানুফ্যাকচার করে থাকে। প্রচুর শ্রমিক কাজ করেন এই ম্যাট্রেস কোম্পানিতে। কিছুদিন আগে এক মার্কিন কোম্পানিও ‘প্রফেশনাল ন্যাপার’ চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। চাকরির শর্ত একটাই, যেকোনও পরিস্থিতির মধ্যে ঘুমোনোর ক্ষমতা থাকা চাই প্রার্থীর। তবে টানা ঘুমোলে চলবে না, প্রতি ঘণ্টায় একবার ঘুম থেকে উঠে নিজের ঘুমের অভিজ্ঞতা জানাতে হবে কর্মচারীকে।
অর্থাৎ কোন ম্যাট্রেসের কী কার্যকারিতা, তার স্বাচ্ছন্দ্য অস্বাচ্ছন্দ্য, সবটাই ইনফর্ম করতে হবে। কোন ম্যাট্রেসের গুণগতমান কীরকম, সেই বিশেষ ম্যাট্রেসে শুলে ক্রেতার আদৌ আরামের ঘুম হবে কি না, সেসব জানাই এই কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য।
সিএনবিসি নামক এই কোম্পানির দাবি ম্যাট্রেস তৈরিতে তারাই বিশ্বসেরা। প্রতিযোগিতার বাজারে আগামী ক্রেতাদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির আরও উন্নত মানের আরামদায়ক ম্যাট্রেস বানানোর লক্ষ নিয়েই তারা এই পদের সৃষ্টি করেছে। বেতন প্রতিমাসে এক লক্ষ টাকা। (Professional Napper)
আপাতভাবে খুব লোভনীয় অফার মনে হলেও বাস্তবে বেড টেস্টার বা প্রফেশনাল ন্যাপারের কাজটা মোটেও সহজ নয়। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে ঘুমোতে বাধ্য করা হবে এই কর্মচারীকে। কোনওদিন ঘুমের আগে কড়া ক্যাফেইন খাওয়ানো হবে, কোনওদিন বা অ্যালকোহল। তাপমাত্রা ওঠানামা করবে, থাকবে যান চলাচল আর চড়া হর্নের শব্দ।
ঘুমপ্রেমীদের জন্যে সুখবর, এবার থেকে শুধু ঘুমলেই মাসে মিলবে ১ লাখ টাকা

অন্ধকারে শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ একেবারে নেই বললেই চলে। নানারকম উজ্জ্বল চোখধাঁধানো আলোর মাঝেই ঘুমোতে হবে সেই কর্মচারীকে, আর সেটাই হবে চাকরিতে তাঁর যোগ্যতার মাপকাঠি। এ ব্যাপারে কোম্পানির বক্তব্য, শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ম্যাট্রেস এত আরাম দেবে যে সহজে ভাঙতেই চাইবে না ঘুম।



