ফের দেশের বাজারে বড় পতন সোনা ও রুপোর দামে। বাজেটের পরের দিনই Multi Commodity Exchange of India (MCX)-তে রুপোর দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। তার জেরে প্রতি কেজি রুপোর দর নেমে এসেছে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৫২ টাকা। সাম্প্রতিক রেকর্ড উচ্চতা থেকে রুপোর দাম কার্যত ৩৯ শতাংশ কমে গেল। নতুন বছরে টানা উত্থানের সময় যেখানে প্রতি কেজি রুপো ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ছুঁয়েছিল, সেখান থেকে এখন অনেকটাই সস্তা এই ধাতু।
দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও রুপোর দামে প্রবল অস্থিরতা দেখা গিয়েছে। সোমবার ট্রেডিং শুরুর পরই এক সময় সিলভারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ পড়ে যায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে COMEX-এ প্রতি আউন্স সিলভারের দাম দাঁড়ায় ৮৪.১৪ ডলার।
রুপোর পাশাপাশি সোনার দামেও চাপ স্পষ্ট। MCX-এ প্রায় ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম নেমেছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
কেন এই আচমকা পতন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
২০২৫ সাল থেকেই সোনা ও রুপোর দামে নজিরবিহীন উত্থান চলছিল। ২০২৬ সালের শুরুতেও সেই ধারা বজায় ছিল। এত দ্রুত এবং এত বড় দামের লাফ অনেক অভিজ্ঞ ট্রেডারকেও চমকে দিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক Federal Reserve-এর নেতৃত্ব নিয়ে ঘোষণার পর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান হিসেবে Kevin Warsh-কে মনোনীত করার পর থেকেই ডলারের শক্তি বাড়তে থাকে। শক্তিশালী ডলারের জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
মার্জিন বাড়ানোয় চাপ আরও বেড়েছে
শুধু ডলার নয়, সোনা–রুপোর দামে ধস নামার পিছনে আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে Chicago Mercantile Exchange (CME)-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। কমেক্স গোল্ড ও সিলভার ফিউচারের ক্ষেত্রে মার্জিন উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হয়েছে।
-
গোল্ড ফিউচারের মার্জিন ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ
-
সিলভার ফিউচারের মার্জিন ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৬ শতাংশ
মার্জিন বেড়ে যাওয়ায় ট্রেডারদের অতিরিক্ত টাকা আটকে যাচ্ছে, ফলে শর্ট-টার্ম ট্রেডারদের একাংশ বাজার ছাড়ছেন। এর ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে এবং দাম দ্রুত নেমে এসেছে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, ডলারের শক্তিবৃদ্ধি, ফেড সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং কমেক্সে মার্জিন বৃদ্ধির যুগপৎ প্রভাবেই সোনা ও রুপোর দামে এই আচমকা পতন। বাজার এখন নতুন দিকনির্দেশের অপেক্ষায়।



