টানা তিন দিনের তীব্র উত্থানের পর হঠাৎই ব্রেক কষল সোনা ও রুপোর দাম। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা-বণ্টনের চাপে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) দেখা গেল তীব্র পতন। একদিনেই সোনা প্রায় ১,০০০ টাকা ও রুপো প্রায় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সস্তা—যা বাজারে স্বাভাবিক ‘কারেকশন’ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মজার বিষয়, ফিউচার মার্কেটে পতনের মধ্যেও স্পট বা স্থানীয় বাজারে রুপোর দামে উল্টো চিত্র ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, Multi Commodity Exchange of India-এ সোনার ফিউচার ০.৬৩ শতাংশ বা প্রায় ৯১০ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪২,২৪৩ টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে রুপোর ফিউচার ৩.৪৮ শতাংশ বা প্রায় ১০,০০০ টাকা কমে প্রতি কেজিতে দাঁড়ায় ২,৭৮,০০০ টাকা। পণ্য-বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক উত্থানের পর লাভ তুলে নেওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ। পাশাপাশি উচ্চ দামে দেশীয় বাজারে ক্রয় কিছুটা কমে যাওয়াও চাপ বাড়িয়েছে।
তবে ফিউচার মার্কেটের এই পতনের মধ্যেই স্থানীয় বাজারে দেখা গিয়েছে ভিন্ন ছবি। দিল্লির সরাফা বাজারে বৃহস্পতিবার রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ৩,০০০ টাকা বেড়ে রেকর্ড ২,৮৯,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। স্টকিস্ট ও জুয়েলার্সদের লাগাতার কেনাকাটার জেরে সোনার দামও প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৩০০ টাকায় উঠে আসে। All India Sarafa Association জানাচ্ছে, টানা পঞ্চম দিনের মতো রুপোর দাম বেড়েছে।
মাত্র পাঁচ ট্রেডিং সেশনে রুপোর দামে নজিরবিহীন লাফ—প্রায় ১৬ শতাংশ বা ৪৫,৫০০ টাকা। ৮ জানুয়ারি যেখানে রুপোর দাম ছিল ২,৪৩,৫০০ টাকা প্রতি কেজি, সেখান থেকে এই উত্থান। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা দ্বিতীয় বছর সোনাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে রুপোর রিটার্ন।
সোনার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার সোনা আরও ৮০০ টাকা বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৩০০ টাকায় পৌঁছেছে (সব কর সহ)। বছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ৯,৬০০ টাকা বা সাত শতাংশ বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে যদিও রেকর্ড উচ্চতা থেকে সামান্য সংশোধন দেখা যাচ্ছে। বুধবার রুপো প্রতি আউন্সে ৯৩.৫২ ডলার ছুঁয়ে ফেরার পর নেমে এসেছে ৯১.২০ ডলারে। স্পট গোল্ডও রেকর্ড ছোঁয়ার পর কিছুটা কমে প্রতি আউন্সে ৪,৬১৪.৪৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। তবু দেশীয় বাজারে জুয়েলারি চাহিদা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দামকে ধরে রাখছে বলেই মত বাজারমহলের।



