জুলাই মাসে এক লাখ টাকা থেকে অনেকটাই নীচে নেমে এসেছে সোনার দাম। এই পতনের জেরে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনই অনিশ্চয়তা থাকায় অনেকেই এখনও সিদ্ধান্তহীনতায়। প্রশ্ন উঠছে— অগাস্টে কী হবে সোনার ভবিষ্যৎ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দামে ওঠানামা চলবে আরও কিছুদিন। কারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশ, বিশেষত আমেরিকা-চিন বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি এবং মার্কিন ফেডের অবস্থান — এই দুই বিষয়েই নির্ভর করছে সোনার চলতি গতি।
বর্তমানে কত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা?
বর্তমানে কমেছে সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য। নিউইয়র্কের কমেক্স (COMEX)-এ আগস্ট ডেলিভারির জন্য সোনার ফিউচার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্সে ৩,৩৩৫.৬০ ডলার, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১.১২% হ্রাস। ভারতের বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে সোনার দাম একাধিকবার হ্রাস পেয়েছে, যা বিনিয়োগের জন্য একটি “সুযোগের জানালা” খুলে দিয়েছে বলেই মত অনেকের।
কী বলছেন মার্কেট এক্সপার্টরা?
ভেনচুরা কমোডিটি অ্যান্ড সিআরএম-এর প্রধান এন.এস. রামাস্বামী জানিয়েছেন, ১ আগস্টের আগে যদি চিন-আমেরিকা আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হয় বা চুক্তি স্থগিত হয়, তাহলে সোনার দাম আরও কমতে পারে। তবে অন্যদিকে, যদি আলোচনা ফলপ্রসূ হয় এবং দুই দেশ শুল্কচুক্তি ৯০ দিনের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়, তবে সোনার দামে স্থিতাবস্থা ফিরে আসতে পারে বা সামান্য ঊর্ধ্বগতি হতে পারে।
নিরাপদ বিনিয়োগের ধারণা কি বদলাচ্ছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন অনেকেই সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন না। শেয়ারবাজার ও অন্যান্য স্কিমে উচ্চ মুনাফার আশায় সোনা থেকে সরে আসছে বিনিয়োগকারীরা। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থাৎ ২০২৫ সালের শেষ দিকে যখন চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আবার সোনা কেনা শুরু করবে, তখন দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
বর্তমানে সোনার দামের ভবিষ্যৎ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। অগাস্ট মাসে বড়সড় দাম ওঠানামার সম্ভাবনা আপাতত কম হলেও, বৈশ্বিক বাজারে যেকোনো বড় ঘটনা মুহূর্তে চিত্র বদলে দিতে পারে। ফলে যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের উচিত সতর্ক থাকা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া।



